ঢাকায় পানি দূষণ কমাতে ৩৭ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২১ বার
ঢাকায় পানি দূষণ কমাতে ৩৭ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পানি দূষণ রোধ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ৩৭ কোটি ডলার বা ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পরিচালকদের সভায়।

‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো নদী ও খালের পানি দূষণ কমানো এবং সেগুলোর স্বাভাবিক নাব্যতা ও প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা। বিশেষভাবে দূষণ ও সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাবেন এবং ৫ লাখ মানুষ উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার পানি দূষণ শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি অর্থনীতিকেও মারাত্মক প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, “ঢাকার জলাশয়গুলো কোটি মানুষের জীবনরেখা। দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। এই প্রকল্প ঢাকার নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।”

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দা পাইপযুক্ত স্যুয়ারেজ সিস্টেমের আওতায় আছেন। অন্যদিকে ৮০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদী ও খালে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার অর্ধেকের বেশি খাল বর্তমানে বিলীন বা বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে।

দেশের মোট রফতানিমুখী পোশাক কারখানার ৮০ শতাংশ ঢাকা ও আশপাশে অবস্থিত। প্রায় ৭ হাজার কারখানা প্রতিদিন ২,৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলে, যার ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে শিল্পবর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন এবং পানির পুনঃব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ওয়াটার স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার হর্ষ গোয়েল জানান, এই কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরু হবে। নদীর পানি পরীক্ষা, ‘ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং’ এবং সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রিসাইক্লিং আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে সরাসরি নদী বা ড্রেনে বর্জ্য ফেলার ঘটনা কমানো হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকল্প কেবল পানি দূষণ কমানোতেই নয়, বরং নগর উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঢাকার পানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত টেকসইতা এবং জনগণের জীবনমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় ঢাকা ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের ত্বরান্বিত গতি আশা করা যাচ্ছে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জনসাধারণের অংশগ্রহণ, সচেতনতা এবং সরকারী ও বেসরকারি সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার নদী ও খালগুলো পুনরায় জীবন্ত হবে এবং সেগুলো শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এটি শহরের জলবায়ু ও বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণেও সহায়তা করবে, যা ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত