সর্বশেষ :
জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের নোয়াখালীতে মাদকের প্রতিবাদে স্কুলছাত্র খুন, এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা মাস্কের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বোনাস, ৪ হাজার ৪০০ কর্মী হচ্ছেন মিলিয়নেয়ার বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর এনসিটি ইস্যুতে নীরব আন্দোলনকারীরা, প্রশ্ন বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা, বদলাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, আয় কমল ১৭ শতাংশ প্রথম সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন তারেক রহমান

ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার বহুল আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। দেশটির পুলিশের বিশেষ শাখা স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। রোববার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির একজন পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং অন্যজন ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সংঘটিত চাঁদাবাজি ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এক বিবৃতিতে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে তথ্য ছিল যে বাংলাদেশে গুরুতর অপরাধ করে পালিয়ে আসা কয়েকজন সন্দেহভাজন সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে ওই দুই বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল।

ভারতীয় পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী প্রথমে বাংলাদেশের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এরপর তারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থান নেওয়ার সময় তাদের গতিবিধি নজরে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ। তদন্তকারীরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে এই তথ্য যাচাই-বাছাই এবং বিস্তারিত তদন্তের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

রোববার গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই দুই সন্দেহভাজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সেদিন বিকেলে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাদির মাথায় গুলি লাগায় তার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা জানান, তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ওসমান হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একজন সংগঠক। তার আকস্মিক মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও অস্থিরতার সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক মহল হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করার দাবি তোলে।

হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি তার চিকিৎসার জন্য সরকারি উদ্যোগে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে যুক্ত হয়।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহ করে যে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকার শীর্ষে ছিল ফয়সাল করিম মাসুদের নাম।

বাংলাদেশি তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তরা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে তাদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে তাদের গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্তের কারণে অনেক সময় অপরাধীরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করে। এ কারণে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার হাদি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।

ওসমান হাদির পরিবার এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা আশা করছেন, সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সামনে আসবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন দৃষ্টি রয়েছে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে। ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে থাকা দুই অভিযুক্তের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয় এবং তা কীভাবে বাংলাদেশের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে যে প্রশ্নগুলো মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল, সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত