প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ের খারাপ পরিস্থিতি নজরকাড়া। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় বাজার হলেও সেখানে বাংলাদেশের পোশাকের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি দামও কমার প্রভাবে রফতানিকারকরা নাভিশ্বাসে রয়েছেন।
গত বছরের জানুয়ারি মাসের সঙ্গে তুলনা করলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে মাত্র ০.৯০ শতাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছিল ৭৯৮.৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৭৯১.৭৭ মিলিয়ন ডলারে। আমেরিকার অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
একই সময়ে অন্যান্য দেশের রফতানিও কমেছে। চীনের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি কমেছে ৬২.৩২ শতাংশ, ভারতের কমেছে ১৮.৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের কমেছে ৩.৫০ শতাংশ। তবে কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৭.২২ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৩.০৯ শতাংশ।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমে ৬.২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ৭.১৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৩.৫১ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক থেকে আমদানি ১৭.০৯ শতাংশ কমলেও গড় একক মূল্যে ৪.৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বাংলাদেশি পণ্যের একক দাম কমেছে ২.০৬ শতাংশ, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। একই সময়ে ভিয়েতনামের দাম ০.৬০ শতাংশ কমেছে, চীনের ২২.৭৪ শতাংশ, ভারতের ৩.৪৫ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ১.৯৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২.২৩ শতাংশ কমেছে। পাকিস্তানের দাম সামান্য বেড়েছে ০.২৯ শতাংশ।
গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) একটি গবেষণায় প্রকাশ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম দাম পান। এর প্রধান কারণ হিসেবে নতুন বাজার সুবিধার অনুপস্থিতি ও উচ্চ শুল্কের চাপকে দায়ী করা হয়েছে।
র্যাপিডের উপপরিচালক জিল্লুর রহমান জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি দাম পান। এর মধ্যে দরকষাকষি ক্ষমতা, পণ্যের মান এবং ক্রেতার প্রাধান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, “যদি আরও অনুকূল বাণিজ্য ব্যবস্থা থাকত, প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো দাম পেত।”
গবেষণায় ১০ ধরনের পোশাক পণ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে, জার্মানির বাজারে টি-শার্ট রফতানি থেকে ২০–২৭ শতাংশ বেশি দাম পাওয়া যায়, ট্রাউজারে ৯–১৫ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) স্কিমের সুবিধা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি।
অপরদিকে, নতুন সুবিধা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক লাখ মার্কিন ডলারের পণ্যের ক্ষেত্রে শিপিং ডকুমেন্ট সরাসরি বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং দ্রুত রফতানি নিশ্চিত হবে। তবে বৈধ রফতানি আদেশ এবং ক্রেতার পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ রফতানিকারকদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ক্রেতার চাহিদা মেটাতে নমনীয়তা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।