প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ প্রেরণ করার কারণে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এই রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। তবে এই রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। মাসিক গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
এক বছর আগে, গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫.৪৪ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম-৬ হিসাবে ২০.৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। অতীতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সেই সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এত দিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ তুলনামূলক কম ছিল, যা রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করেছে। তবে নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে বিনিয়োগ বাড়লে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়, তাহলে ভবিষ্যতে ডলারের সংকট বড় আকার ধারণ করবে না। এদিকে রিজার্ভের এই চাঙা অবস্থা দেশের অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে।