প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরবর্তী সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই বাজারেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিনের শুরু থেকেই লেনদেনে ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ফলে লেনদেনের প্রথম দিকেই প্রধান সূচকগুলো ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা কিছুটা ফিরে আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩০৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সময়ে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১০৭৬ ও ২০১৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এই সময়ের মধ্যে মোট ৯৭ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, ঈদের ছুটি শেষে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ায় লেনদেনে গতি এসেছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী ২০৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯০টির দাম কমেছে এবং ৬৫টি কোম্পানির শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। এতে বোঝা যায়, বাজারে ক্রয়চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল সান লাইফ ইনস্যুরেন্স, রানার অটো, বিডি অটোকার, একমি লিমিটেড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, পার্ল, ইনটেক লিমিটেড, ডোমেনেজ স্টিল ও গোল্ডেন সন। এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।
বাজারে দিনের শুরুতে সূচকের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আরও ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায় সূচক। ধাপে ধাপে এই উত্থান অব্যাহত থাকে এবং ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে পৌঁছে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পর বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বাজারে অংশগ্রহণ এবং কিছু কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধিই সূচকের এই ইতিবাচক গতির মূল কারণ। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। যদিও বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম, তবে বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বিনিয়োগকারীরা নতুনভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন। অনেকেই এখন অপেক্ষা করছেন কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য।
তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে এক ধরনের সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে। বড় ধরনের পতন না থাকায় বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাজারে লেনদেন বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, বীমা ও ওষুধ খাতের কিছু শেয়ারে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এ ধরনের ধারা অব্যাহত থাকে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে পুঁজিবাজার আরও সক্রিয় হতে পারে।
সব মিলিয়ে ঈদ পরবর্তী সপ্তাহে পুঁজিবাজারে সূচকের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। যদিও বাজার এখনো পূর্ণ গতিতে ফিরেনি, তবে প্রাথমিক এই ইতিবাচক প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য ভালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।