আবার কমলো স্বর্ণের দাম, নতুন দরে বিক্রি আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫২ বার
আবার কমলো স্বর্ণের দাম, নতুন দরে বিক্রি আজ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও কমেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। সাম্প্রতিক সমন্বয়ের ফলে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, ডলারের মূল্য ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে নতুন কম দামে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং দেশের সব স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নতুন দর অনুযায়ী লেনদেন করছেন।

স্বর্ণের দামে এই পতনকে বাজার সংশ্লিষ্টরা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সমন্বয় হিসেবে দেখছেন। এর আগে গত ২৫ মার্চও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময় ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে বেশ অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। কখনো দাম বাড়ছে আবার কখনো কমছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেনি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ দফা কমানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, বাজারে দামের ওঠানামা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।

২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজার ছিল অত্যন্ত অস্থির। ওই বছরে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ডলারের দামের পরিবর্তন স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলে। এসব কারণেই দেশে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।

স্বর্ণের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকায়।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৩ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

স্বর্ণের দাম কমার ফলে বিয়ের মৌসুমকে সামনে রেখে ক্রেতাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তেও পারে। ফলে যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

স্বর্ণ শুধু অলংকার হিসেবে নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে থাকেন। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা বা অর্থনৈতিক ঝুঁকি দেখা দিলে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দামের ওপরও তার প্রভাব পড়ে।

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দাম কমলে সাধারণত বিক্রি বাড়ে। কারণ অনেক ক্রেতা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেন দাম কমার জন্য। সাম্প্রতিক এই মূল্য হ্রাস বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম কী হবে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির ওপর। তাই বিনিয়োগ বা কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাজার বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে স্বর্ণের এই মূল্য হ্রাস। তবে বাজারের অস্থিরতার কারণে দাম আবার বাড়তেও পারে। ফলে আগ্রহী ক্রেতারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত