যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৬২ হাজার টন গম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে United States থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ গম দ্বিতীয় ধাপে দেশে পৌঁছেছে। ‘এমভি উবন নারী’ নামের একটি জাহাজে করে ৬২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন গম নিয়ে এটি Chittagong Port-এর বহিঃনোঙরে এসে ভিড়ে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরের দিকে জাহাজটি বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে প্রবেশ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সাথে সরকারের (জিটুজি) চুক্তির আওতায় এই গম আমদানি করা হয়েছে। জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে গমের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সমন্বয়ে এই নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় গম মানুষের খাদ্য হিসেবে নিরাপদ ও মানসম্মত কিনা।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে শনিবার থেকেই গম খালাসের কার্যক্রম শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে কাস্টমস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। খালাস শেষে এই গম দেশের বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষণ করা হবে এবং পরবর্তীতে বাজারে সরবরাহ করা হবে।

এবারের চালানে আসা গমের একটি অংশ সরাসরি Chittagong Port-এ খালাস করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ Mongla Port-এ স্থানান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ৬২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টনের মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন চট্টগ্রামে এবং বাকি ২৪ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন মোংলায় খালাস করা হবে।

এর আগে প্রথম ধাপের শিপমেন্টে প্রায় ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম দেশে আসে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাইলো ও গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে গম আমদানি কার্যক্রম চলমান থাকায় দেশের খাদ্য মজুদ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জিটুজি-১ চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন গম এবং জিটুজি-২ চুক্তির আওতায় আরও ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে। এই ধারাবাহিক আমদানি দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের বার্ষিক গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে দেশীয় উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। এই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে গম আমদানি করে থাকে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি, দাম এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. সাকিব রেজওয়ান জানিয়েছেন, জাহাজটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বন্দরের বহিঃনোঙরে অবস্থান করছে এবং ইতোমধ্যে নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পর দ্রুত খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও জানান, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এদিকে, আমদানি করা গমের মান নিয়ে যেন কোনো ধরনের প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। পরীক্ষায় যদি কোনো অনিয়ম বা মানগত ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গম সংগ্রহের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাও সরকারের একটি প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত এই গম চালান দেশের খাদ্য মজুদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত খালাস ও বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাজারে সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে এবং ভোক্তারা এর সুফল পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত