আমানতকারীর অর্থ নিরাপদ, আশ্বস্ত করল এসবিএসি ব্যাংক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
এসবিএসি ব্যাংক আমানত নিরাপদ বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রশ্ন যখন বিভিন্ন সময় আলোচনায় উঠে আসে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই ব্যাংকে রাখা আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বুধবার ব্যাংকটির ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গ্রাহক সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতের মূল ভিত্তি হলো আস্থা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় মানুষের মধ্যে এমন বিশ্বাস ছিল যে মুদ্রিত কোনো তথ্য ভুল হতে পারে না। সেই বিশ্বাস দীর্ঘদিনের নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং মান বজায় রাখার মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। ঠিক তেমনভাবেই ব্যাংকিং খাতে আস্থা তৈরি করাও সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, তাদের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রয়েছেন এবং তারা প্রতিনিয়ত সেই আস্থা পুনর্গঠনে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সফলতা নয়, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নেও অবদান রাখা। বিশেষ করে কৃষি খাত ও খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর ব্যাংকটি জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রদান এবং দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে পারলে অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে।

ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে ঋণের অর্থ অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো উদ্যোক্তা নির্দিষ্ট খাতে ঋণ নিয়ে সেটি যথাযথভাবে ব্যবহার করেন, তবে ব্যবসায়িক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক তাকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু যখন ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে, বিশেষ করে অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হয় না, বরং পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

লভ্যাংশ দিতে না পারার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান বা অ্যাসেট কোয়ালিটি ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি এটিকে গ্রামের আগুনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, একবার ছড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব সবাইকে স্পর্শ করে। সম্পদের মান নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো লভ্যাংশ বিতরণে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল কবীর বলেন, গ্রাহকদের আস্থার ওপর ভিত্তি করেই এসবিএসি ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই আস্থাকে শক্তিশালী করে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ব্যাংকটি বর্তমানে কোনো তারল্য সংকটে নেই এবং তাদের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি আগ্রাসী বিনিয়োগ নীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং যাচাই-বাছাই করে ভালো গ্রাহকদের মাঝে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তার মতে, অতি দ্রুত লাভের চেয়ে টেকসই উন্নয়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ মহামারি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংঘাত, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক বড় ঋণগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা উৎপাদন কমে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দিয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক এখন বড় ঋণের পরিবর্তে মাঝারি, ক্ষুদ্র এবং উদীয়মান খাতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা এবং যারা এখনও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, শ্রেণিবদ্ধ ঋণ কমিয়ে একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য প্রতিদিন কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

সামগ্রিকভাবে এই সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা হলো—বর্তমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তারা গ্রাহকদের নিরাপত্তা এবং আস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যাংকিং খাতের এই কঠিন সময়ে এমন আশ্বাস গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত