হাম প্রতিরোধে রোববার থেকে টিকাদান কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪১ বার
হাম টিকাদান কর্মসূচি বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করা হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সরকার আগামী রোববার থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের হার যেভাবে বেড়েছে, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে টিকাদান কর্মসূচি নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব অঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে সক্রিয় রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব না ঘটে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ বেশ কয়েকটি জেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং পঞ্চাশের বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সহজেই বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১৬ থেকে ১৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম, যা এটিকে দ্রুত বিস্তারকারী রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়।

বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের দুই ধাপে হামের টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সময় সময় জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সর্বশেষ এমন একটি জাতীয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, যেখানে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা প্রদান করেন, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা এই দায়িত্ব পালন করেন। আসন্ন কর্মসূচিতেও এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা শৈথিল্য এবং সচেতনতার অভাবের কারণে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। তারা মনে করছেন, এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি বা যাদের টিকার ডোজ সম্পূর্ণ হয়নি, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে টিকাদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং গুজব বা ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে হলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইসোলেশন নিশ্চিত করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, দেশে হামের সাম্প্রতিক বিস্তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিলেও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টিকাদান কর্মসূচি সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত