নতুন সময়সূচি মানেনি মার্কেট, চলেছে বেচাকেনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
নতুন সময়সূচি মানেনি মার্কেট, চলেছে বেচাকেনা

প্রকাশ:  ৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেও প্রথম দিন রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় তা কার্যকর হয়নি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই দোকান খোলা রেখে বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে নিউমার্কেট এলাকায় রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরুতেই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে।

সরকার গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা নির্ধারণ করে এবং একই সঙ্গে দেশের সব মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ কিছু প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান খোলা রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতিও স্বাভাবিক দিনের মতোই। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এখনো মালিক সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাননি। ফলে প্রথম দিন অনেকেই দোকান বন্ধ না করে স্বাভাবিক সময় পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। একই চিত্র ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, পান্থপথসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় দেখা গেছে।

নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, দোকানপাট খোলা থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই কেনাকাটা করছেন। তার মতে, যদি কোনো বাধা না থাকে তাহলে মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করবেই। আরেকজন ক্রেতা বলেন, সরকার নিশ্চয়ই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। তবে হঠাৎ সময় পরিবর্তনের কারণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষের মধ্যেই কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা মানতে তারা বাধ্য। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় সময় কিছুটা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। তাদের মতে, সন্ধ্যার পরই মূলত ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ে। ফলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে বিক্রির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সামনে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময় হওয়ায় বিক্রির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সরকারের কাছে সময় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে, সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টা থেকে দোকান খুলে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দিলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের জন্য সুবিধা হবে। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য আংশিক পূরণ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণও কম হবে।

নিউমার্কেটের এক স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ী বলেন, সন্ধ্যার পরই তাদের দোকানে বেশি ক্রেতা আসেন। তাই সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দিলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সহজ হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা তারা বুঝতে পারেন, তবে হঠাৎ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, প্রথম দিন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলেও পরবর্তী দিনগুলোতে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দোকান মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, শনিবার থেকে ব্যবসায়ীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে যাতে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করা হয়। তবে অনেক ব্যবসায়ী এখনো রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদী।

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ সময় পরিবর্তনের কারণে প্রথম দিকে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। তবে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সময়সূচি বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সন্ধ্যার পরও কেনাকাটার ভিড় দেখা যাওয়ায় বোঝা যায়, নগরজীবনে রাতের বাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি। চাকরিজীবী মানুষদের বড় একটি অংশ দিনের ব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যার পরই কেনাকাটার সুযোগ পান। ফলে সময় কমিয়ে দিলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, তারা সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সহযোগিতা করতে চান। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বলছে, নতুন সময়সূচি কার্যকর করতে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা পরিষ্কার নির্দেশনা পেলে এবং পর্যাপ্ত সময় পেলে দ্রুতই নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত