রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর বাজারে স্বস্তির ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে না। ঈদুল ফিতরের মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সেই ঊর্ধ্বগতি এখনও বজায় আছে। মুরগি, ডিম, সবজি এবং মাছসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। যদিও কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমেছে, বাজারে এখনও স্বাভাবিক মূল্য প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না।

বাজারদর অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি কক ৩৪০-৩৫০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৮০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০-৮৫০, খাসির মাংস ১০৫০-১১০০ টাকায় ক্রেতার কাছে পৌঁছেছে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। গোল ও লম্বা বেগুন ৭০-৮০, মরিচ ১২০-১৩০, পেঁপে ৪০, মিষ্টিকুমড়া ৫০-৬০ এবং আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ৮০-১০০, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৭০-৮০, পটোল ৮০-১০০ এবং ধুন্ধল ৭০-৮০ টাকায় ক্রেতাদের হাতে যাচ্ছে। টম্যাটো ও শসার দাম ৫০-৬০ এবং শজিনা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি কেজি ৪০-৫০ এবং পিঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

চালের বাজারেও দাম কিছুটা বেশি। মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৫-৮৮ টাকা, রশিদ ৭৫-৮০, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৭০ এবং মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের দাম ৯০ টাকা কেজি। ডালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকন মসুর ১৫০-১৫৫, মোটা মসুর ৯০-১০০, বড় মুগ ১৪০, ছোট মুগ ১৭০, খেসারি ১০০, মাষকলাই ১৮০ এবং বুটের ডাল ১১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও দাম বেশি। রুই মাছ ৩০০-৩৫০, কাতলা ৩২০-৩৫০, পাঙাশ ১৮০-২০০, তেলাপিয়া ১৮০-২২০, চিংড়ি ৬৫০-৭৫০, কই ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩০০-৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারদর বৃদ্ধি সম্পর্কে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে সবজি, মাছ, মাংস ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পণ্য আগে থেকে মজুত ছিল, সেগুলোর দাম স্থিতিশীল থাকলেও নতুন সরবরাহের পণ্যের দাম ক্রমশ বেড়ে চলছে।

মিরপুরের স্থানীয় বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষ এখন নিত্যপণ্যের খরচ সামাল দিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাজারে ক্রেতাদের চাপ এবং ক্রয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে সরাসরি পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। নিত্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষা করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঈদের সময় সাধারণ মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। তারা আরও জানান, উৎপাদক ও বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দাম বৃদ্ধি রোধ করা কঠিন হবে।

মোটের উপর, রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। মুরগি, ডিম, সবজি, মাছ ও ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি ফিরতে হলে দ্রুত বাজার পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত