কৃষক কার্ডে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা কৃষিমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৩ বার
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াসিন

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টাঙ্গাইলে পহেলা বৈশাখের দিনে কৃষি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৃষিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে কৃষি আর কেবল জীবিকার ক্ষেত্র নয়, বরং একটি সম্মানজনক ব্যবসায়িক খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। দেশের প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ সহায়তা পাবেন এবং কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। কৃষকেরা সরাসরি সুবিধা পেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি পণ্যের বাজার ব্যবস্থাও আরও স্থিতিশীল হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি আর্থিক সহায়তার মাধ্যম নয়, বরং এটি কৃষকের পরিচয় ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষি খাতে নানা ধরনের সমস্যার কারণে তারা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগ তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের নির্দিষ্ট কিছু কৃষি অঞ্চলে এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সফলতা পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে সারাদেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ কৃষি ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত করবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সঠিক তথ্যভাণ্ডার, স্বচ্ছ বণ্টন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃষিকে কেবল খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তরুণ প্রজন্মও কৃষিতে আগ্রহী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষক কার্ড কর্মসূচি নতুন একটি দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ কৃষি খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

সব মিলিয়ে টাঙ্গাইলের এই আয়োজন কৃষি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে কৃষককে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত