প্রকাশ: ২২শে জুলাই’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার আরেকটি সুযোগের মুখোমুখি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের জয়ে সিরিজে এগিয়ে থাকা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আজ জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করবে বহু কাঙ্ক্ষিত সিরিজ জয়। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। ২০১৫ সালে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর পর, এখন পর্যন্ত দুই বা ততোধিক ম্যাচের সিরিজে কখনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। আজ সেই বৃত্ত ভাঙার এক সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষায় রয়েছে লিটন কুমার দাসদের সামনে।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আজ আবারও সামনে আসছে। পাকিস্তান কোচ ও অধিনায়ক প্রথম ম্যাচ শেষে সরব হয়েছেন উইকেটের আচরণ নিয়ে। তারা অভিযোগ করেছেন, বলের গতিপথ ছিল অনিশ্চিত, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ছিল অস্বস্তিকর। কিন্তু সেই একই উইকেটে বাংলাদেশ দল মাত্র ১৫.৩ ওভারে ১১২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নিয়েছে। পার্থক্যটা উইকেটে নয়, বরং সেটি মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতায়, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার মনস্তত্ত্বে। আর এই মানিয়ে নেওয়ার খেলাতেই বাংলাদেশ নিজেদের প্রমাণ করেছে বারবার, বিশেষ করে ঘরের মাঠে।
২০২১ সালে এই মিরপুরেই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ, উইকেট তখনও একই ছিল। ২০২৩ সালে একই মাঠে ইংল্যান্ডকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে সিরিজে ধবলধোলাই করেছিল টাইগাররা। সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরেই এবার এসেছে পাকিস্তান। আর তার বিপক্ষেই আরও একবার ঘরের মাঠে ইতিহাস লেখার সম্ভাবনা সামনে এনে দিয়েছে প্রথম ম্যাচের দাপুটে জয়।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দল দেখিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের দুর্দান্ত সংমিশ্রণ। ব্যাট হাতে সৌম্য সরকারের ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা, বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং পুরো দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রথম ম্যাচে জয় এনে দিয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ মিরপুরে নামছে লিটনরা। শুধু সিরিজ জয় নয়, ইতিহাসকে স্পর্শ করারও সুযোগ আজ তাদের হাতে।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাস বরাবরই ছিল টুকরো সাফল্যের গল্প। ধারাবাহিকতা ছিল না বললেই চলে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ে সফর দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় এনে দেয় নতুন যুগের ইঙ্গিত। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।
তবে আজকের ম্যাচ কেবল একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়। আজকের খেলায় থাকবে এক গভীর শোকের ছায়া। রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৫ শিশুসহ অন্তত ২৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো জাতি আজ স্তব্ধ। সেই শোকেই আজ খেলোয়াড়রা মাঠে নামবেন কালো ব্যাজ পরে। জয়-পরাজয়ের বাইরেও আজ তারা জাতির যন্ত্রণার অংশীদার। একটি বিজয় যেমন আনবে সিরিজ জয়ের আনন্দ, তেমনি থাকবে দেশের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ।
আজকের মাঠ তাই শুধুই ক্রিকেটের নয়—এটি হয়ে উঠবে শোক ও সম্ভাবনার এক মিলনস্থল। ক্রিকেটারদের কাঁধে থাকবে কেবল বল ব্যাট নয়, থাকবে দেশের প্রতিটি মানুষকে কিছুটা আনন্দ দেওয়ার দায়িত্ব। সেই আনন্দই হয়তো কিছুটা প্রশমিত করতে পারে জাতীয় শোকের ভার।
‘একটি বাংলাদেশ অনলাইন’ আশাবাদ ব্যক্ত করছে—আজকের দিনটি লিটনদের জন্য গৌরবের ইতিহাস হয়ে উঠবে, এবং সেই ইতিহাসের পৃষ্ঠায় থাকবে জাতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য স্বাক্ষর।