প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার মৃত্যুতে প্রশাসনিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, যেখানে সহকর্মী, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মহলে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসকের বিদায়ের শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে।
এক শোকবার্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন অত্যন্ত দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। তার পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং সততা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, তার অকাল মৃত্যু দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল প্রশাসকের চলে যাওয়া শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের ক্ষতি নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্যই এটি একটি অপূরণীয় শূন্যতা।
মাহবুবুর রহমান শুক্রবার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ১৩ এপ্রিল রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়, যা ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। দীর্ঘ চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তার জানাজার নামাজ বাদ জুমা রাজধানীর ইস্কাটনে সবিব নিবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসন ও সহকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মাহবুবুর রহমান ছিলেন ১৩তম বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশাসনিক মহলে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
সর্বশেষ তিনি গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন নীতিগত কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তার মৃত্যুতে শুধু মন্ত্রণালয় নয়, সমগ্র প্রশাসনিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সহকর্মীরা বলছেন, তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, দায়িত্বশীল এবং সবসময় কাজের প্রতি নিবেদিত একজন কর্মকর্তা। তার অনুপস্থিতি ভবিষ্যতেও অনুভূত হবে।
বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, মাহবুবুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তার চলে যাওয়া দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
এই আকস্মিক মৃত্যু প্রশাসনিক মহলে আবারও স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং সময়মতো চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্ব বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, একজন অভিজ্ঞ প্রশাসকের বিদায়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ পুরো সরকারি প্রশাসনে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার কর্মজীবন ও অবদান সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।