প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের মাধ্যমেই নয়, বরং তাদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছেন।
রোববার মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। ওই সময় ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার এলাকার টেমসাইড কাউন্সিল-এর সিভিক মেয়র কাউন্সিলর শিবলি আলম তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা দেশের অমূল্য সম্পদ। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের জ্ঞানভিত্তিক অবদান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বর্তমান সময়ে। প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তারা যেন দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বিনিয়োগ, উদ্যোগ এবং দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, সরকার প্রবাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী এবং তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আলোচনায় যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সাক্ষাৎকালে কাউন্সিলর শিবলি আলম বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সাফল্য দেখাচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছে। তার মতে, এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগ এবং সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে। এর সঙ্গে যদি প্রবাসীদের জ্ঞান ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের অবদান দীর্ঘদিনের। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রবাসীরা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে যুক্ত হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর বক্তব্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রবাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং তাদের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।