মির্জাগঞ্জে সড়ক ভাঙনে ৫ গ্রামে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভেঙে গিয়ে পাঁচটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, নষ্ট হয়েছে ডাল, বাদাম ও মিষ্টি আলুসহ কয়েক একর জমির ফসল, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমড়াগাছিয়া এলাকায় কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পানির চাপ ও প্রবল স্রোতের কারণে ওই এলাকার সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ধসে যাওয়ায় আমড়াগাছিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, এটি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থী চলাচল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সড়ক ভেঙে পড়ায় এখন মানুষকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে।

আমড়াগাছিয়া গ্রামের কৃষক মো. কবির জমাদ্দার জানান, সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সময়মতো সেগুলো বাজারে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, জমিতে পানি জমে থাকায় ডাল, বাদাম ও মিষ্টি আলুর গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেতেই সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত সড়কটি মেরামত না করলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

একই গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, তারা মৌসুমি ফসলের ওপর নির্ভরশীল। বছরের এই সময়টায় ফসল বিক্রি করে সংসার চালানো তাদের প্রধান উপার্জনের উৎস। কিন্তু সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সড়কের ভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাঙা সড়কের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি জানান, পানি নেমে গেলে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়ক মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তবে এবারের ভাঙন তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে টেকসই সড়ক নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অঞ্চলে নরম মাটির গঠন ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে বর্ষা মৌসুমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ দ্রুত পুনর্বাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বর্তমানে ভাঙা সড়কটির দুই পাশে পানি জমে রয়েছে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও কবে নাগাদ স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত