চাঁদাবাজি মামলায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার
সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলার কথা জানানো হয়।

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্থানীয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের পর দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সালাউদ্দিনকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারধরসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের মামলা (মামলা নম্বর ৪৮) দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সালাউদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব Ruhul Kabir Rizvi এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও একই সঙ্গে এটি স্থানীয় রাজনীতিতে নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক দলের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এলাকাবাসীর একাংশ জানান, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। তবে এবার সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী দলীয় ব্যবস্থা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায়। দল কখনোই অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও পরবর্তী দলীয় বহিষ্কারাদেশ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারণে আরও সতর্কতার বার্তা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত