গরুর হাটে চাঁদাবাজি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
গরুর হাটে চাঁদাবাজি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গরুর হাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলি পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু পরিবহন, হাট ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাপত্তা এবং স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পশু পরিবহনের সময় সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হয়রানি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। যদি কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির সময় লাখো মানুষ গ্রাম থেকে শহরে এবং শহর থেকে গ্রামে পশু আনা-নেওয়া করেন, তাই এই সময়ে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, এবারের ঈদে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও হাট ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রেললাইন ও সড়কের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। কারণ এসব স্থানে হাট বসলে যানজট, দুর্ঘটনা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। সরকার চাইছে যেন মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তিতে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারে।

গাবতলি পশুর হাট পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

তিনি আরও বলেন, হাটগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে, যারা হাট পরিচালনায় সহযোগিতা করবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহায়তা করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পশুর হাটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাট ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রশাসন এবং ইজারাদারদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে।

তিনি আরও জানান, হাট এলাকায় ওয়াচটাওয়ার স্থাপন করা হবে, যাতে পুরো এলাকা নজরদারির মধ্যে রাখা যায়। পাশাপাশি নকল টাকা ব্যবহার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা হাটে আর্থিক লেনদেনকে নিরাপদ করবে। এ ছাড়া পশু কেনাবেচায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বটে। এই সময়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, তাই পুরো ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সরকার চায় কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং সবাই নিরাপদে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারে।

গাবতলি হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারাও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, প্রতি বছরই ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র চাঁদাবাজি ও হয়রানির চেষ্টা করে। এবার যদি সত্যিই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে পশুর হাটে স্বস্তি ফিরবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

সব মিলিয়ে আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট যে, এবার চাঁদাবাজি বা অনিয়মের কোনো সুযোগ রাখা হবে না। প্রশাসনের সক্রিয়তা ও সমন্বিত উদ্যোগে একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত ঈদ বাজার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত