তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন তথ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার নতুন তথ্য

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সাম্প্রতিক ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে তার পোশাক থেকে চারজন পুরুষের অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু এবং আরও একজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এই ফলাফল মামলার তদন্তে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিআইডিকে পাঠানো এক চিঠির জবাবে প্রায় এক মাস আগে এই তথ্য পাওয়া যায়। তার ভাষায়, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Sohagi Jahan Tonu ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নাট্যকর্মী। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা তখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি মামলাটি তদন্ত করলেও দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, যিনি ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি মামলার আলামত পুনরায় বিশ্লেষণ, ডিএনএ পরীক্ষার অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

পিবিআই সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

তদন্ত সংস্থা তার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে এবং তা তনুর পোশাকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই পরীক্ষার ফল এখনো সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি।

মামলার এই নতুন ডিএনএ তথ্য প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তনু হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই ঘটনায় নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তদন্তকে নতুন দিক দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। বিশেষ করে একাধিক পুরুষের জৈবিক নমুনা পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এই মামলা নিয়ে জনমনে অসন্তোষও রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। তাই প্রতিটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও সাক্ষ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে তনু হত্যাকাণ্ডের নতুন ডিএনএ তথ্য মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। তবে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে এখনো অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত