মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত অন্তত ৪৬

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৮৫ বার

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চীন সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে শান স্টেটের কাওং তাত নামক একটি গ্রামে এ বিস্ফোরণ ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক বাড়িঘর ধসে পড়ে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণে ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছেন তা নিশ্চিত করা না গেলেও পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাওয়াডি জানায়, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪৬। কিছু প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ৫০-এর বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে বলেও জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিস্ফোরণের পর বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং একাধিক পরবর্তী বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। কিছু ছবিতে পুরো বসতবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এলাকাটি তাওং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (TNLA) নিয়ন্ত্রণাধীন বলে জানা গেছে। সংগঠনটি মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি, যারা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে।

TNLA পালং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্টের সশস্ত্র শাখা হিসেবে পরিচিত এবং এটি থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অংশ। এই জোট ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এলাকাটিতে সংরক্ষিত বিস্ফোরক খনন কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য রাখা ছিল। রুবি খনির জন্য পরিচিত ওই অঞ্চলে এ ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

তবে কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। TNLA জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অস্থিরতায় রয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সব মিলিয়ে, মিয়ানমারের এই বিস্ফোরণ দেশটির চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে মানবিক সংকট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com