বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উচ্চমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বাড়তে শুরু করেছে মার্কিন ডলারের দাম। দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকা ডলারের বাজারে সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বগতি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই; আমদানি পণ্যের দাম, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এর আগের দুই দিন ডলারের দর ছিল ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। অন্যদিকে, গত কয়েক দিনে অনেক ব্যাংক প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে প্রতি ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করেছে। ফলে আনুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ না বাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।
ডলারের বাজারে বাড়তি চাপ সামাল দিতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ কোটি ডলার বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল। এ জন্য উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে নিলাম আহ্বান করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, আগ্রহী ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ দুই কোটি এবং সর্বনিম্ন ৫০ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দিতে পারবে। দুপুর আড়াইটার মধ্যে দরপ্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কয়েকটি ব্যাংক ডলার কেনার আগ্রহ দেখিয়ে প্রস্তাবও জমা দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর দুপুর ৩টার দিকে হঠাৎ নিলামটি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নিলাম আহ্বানের পর তা বাতিল হওয়ায় ব্যাংকারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা মনে করেন, বাজারে ডলারের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডলারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিলাম বাতিলের বিষয়টি বাজারকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান নিলাম বাতিলের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে, যার প্রভাব ডলারের বিনিময় হারে পড়তে পারে।
ডলারের দরবৃদ্ধির পেছনে শুধু এলএনজি আমদানি নয়, সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য দায়ও বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং পেট্রোবাংলার আমদানি বিল পরিশোধের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আমদানি ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক নিলাম বাতিলের পেছনেও দর নিয়ে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। ব্যাংকগুলোর দেওয়া দরপ্রস্তাব ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সার মধ্যে ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তুলনামূলক কম দামে ডলার বিক্রি করতে আগ্রহী ছিল। ফলে প্রত্যাশিত দরে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিলাম থেকে ডলার বিক্রি করা হয়নি বলে ব্যাংকারদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১২২ মিলিয়ন বা ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল। ওই সময় ব্যাংকগুলোর চাহিদা ছিল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাজারে ডলারের চাহিদা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরবরাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিময় হারসংক্রান্ত পরিসংখ্যানেও ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। অক্টোবরের শুরুতে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ছিল ১২৩ টাকার কিছু বেশি। মাসের শেষ দিকে তা প্রায় ১২৪ টাকায় পৌঁছায়। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় আড়াই মাসে ডলারের দর প্রায় ১ টাকা ৯০ পয়সা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বাজারের তথ্য থেকে জানা যায়। অক্টোবরের শেষ দিকে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এলসি দায় পরিশোধের সময়সীমা থাকায় বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।
ডলারের সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভরসা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে এক হাজার ১৪৬ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এই সময়ে রপ্তানি থেকে দেশে এসেছে এক হাজার ৭০৪ কোটি ডলার। এসব পরিসংখ্যান ইতিবাচক হলেও আমদানি ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধির তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান যথেষ্ট হচ্ছে না বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহেও কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৭৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। অক্টোবর মাসে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮৭ কোটি ডলার। টানা দুই মাস রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত মাত্রায় ডলারের সরবরাহ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, রপ্তানি আয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে সেই প্রবৃদ্ধি আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না।
আমদানির চিত্রেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের বিষয়টি স্পষ্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ আমদানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে আমদানি ব্যয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে প্রায় এক হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে। আগের অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পেট্রোলিয়াম আমদানিতে যেখানে প্রায় ১২৫ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে প্রায় ২৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসে এই খাতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অক্টোবরেও জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানির বিল পরিশোধে সরকারের অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে এসব খাতের আমদানি দায় মেটাতে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন হয়েছে, যেখানে আগে ব্যয়ের প্রাক্কলন ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। আমদানির এই বাড়তি ব্যয় ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে নতুন করে এলসি খোলা, পুরোনো এলসির দায় পরিশোধ এবং শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের জোগান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডলারের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে। বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ভোজ্যতেল, গম, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেলে এসব পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের বিক্রয়মূল্যে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উৎপাদননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি চাপে পড়তে পারে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের ডলারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স এবং উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ছাড়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ ডলার আসছে, আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় মেটাতে তার চেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউকে অযথা দোষারোপ না করে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
ডলারের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ হিসাবে তা কমে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, একই সময়ে রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যদিও রিজার্ভের এই পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দেয় না, তবে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায়ের চাপ অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জুন দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৭ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন করে ডলারবাজারের অস্থিরতা নিয়ে সতর্ক রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করলেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে না। বরং রপ্তানি আয় বাড়ানো, প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় ত্বরান্বিত করা এবং বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ডলারবাজার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একদিকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য আমদানির বাড়তি ব্যয়, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ—দুইয়ের সমন্বয় করতে না পারলে টাকার ওপর আরও অবমূল্যায়নের চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় পর্যন্ত। তাই সাময়িকভাবে ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানো এবং আমদানি ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ওপর এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত