সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

ভিসা নিয়ে আশার বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে এসে ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। সীমান্তে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের নতুন এই হাইকমিশনার। সেখানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ এবং ভিসা জটিলতা নিয়ে তিনি আশাবাদী বার্তা দেন।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে ছিল প্রতিবেশী দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মিল অনেক গভীর। একই আকাশ, একই বাতাস এবং একই আবহে দুই দেশের মানুষ বাস করে। তার কথায়, ভিসার বিষয়টি তার মাথায় আছে। তবে তিনি আলাদা করে কোনো ঘোষণা না দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ভেতরেই বিষয়টি দেখার কথা বলেন।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা পুরোপুরি চালু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ মিলিয়ে ১৬০ কোটি মানুষের এক বড় জনসমাজ তৈরি হয়। তাই যা হবে, তা একসঙ্গেই হবে। তিনি বলেন, আলাদাভাবে কিছু ভাবার সুযোগ নেই। দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ, সম্পর্ক ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে এগোতে হবে।

তার এই বক্তব্য ভিসা প্রত্যাশী বহু মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পারিবারিক প্রয়োজন ও ভ্রমণের জন্য ভারতে যান। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসার চাহিদা সবসময় বেশি। পাশাপাশি কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশিদের যাতায়াত দীর্ঘদিনের। তাই ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা বা বিলম্ব তৈরি হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েন।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কয়েক দফা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভিসা কার্যক্রমেও। নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দুই দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত আগের মতো সহজ ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন জমা দেওয়া, সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া এবং পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল। এই বাস্তবতায় নতুন হাইকমিশনারের আশাবাদী বক্তব্য অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই শক্তিশালী গণতন্ত্র। এই দুই গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে তা বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তার ভাষায়, দুই দেশের মেলামেশা খুব জরুরি। আর সেই মেলামেশা বাড়াতে যে দায়িত্ব তার ওপর আছে, তিনি তা পালন করবেন। তবে তিনি এ ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা আছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার আলোচনা চলছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, পানি বণ্টন, ভিসা, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসব ইস্যুতে আস্থা ও সংলাপ খুব জরুরি। তাই ঢাকায় নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণকে কূটনৈতিক মহল গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভায়ও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজনৈতিক পটভূমির একজন ব্যক্তিকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে অনেকে বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশকে ভারত শুধু প্রশাসনিক বা কূটনৈতিকভাবে নয়, রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েও দেখছে। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তির নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশি ভিসা প্রত্যাশীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন পর্যটন ভিসা নিয়ে। চিকিৎসা ও জরুরি ভিসা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেলেও সাধারণ পর্যটন ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। বহু পরিবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে বা ভ্রমণের জন্য অপেক্ষা করছেন। ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত যাতায়াত সহজ হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। কারণ ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অর্থনীতি, হোটেল ব্যবসা, পরিবহন, চিকিৎসা খাত ও খুচরা বাজার দুই দেশের মানুষের যাতায়াতের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে শুধু ভ্রমণ নয়, অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভারতের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আবার বাংলাদেশ থেকেও অনেক শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী ভারতে যান। সীমান্ত এলাকার মানুষজনের পারিবারিক সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। অনেকে এক দেশে থাকেন, তাদের আত্মীয়স্বজন থাকেন অন্য দেশে। তাই ভিসা শুধু একটি কাগজ নয়। অনেক মানুষের কাছে এটি চিকিৎসা, সম্পর্ক, শিক্ষা, ব্যবসা এবং জরুরি প্রয়োজনের পথ।

তবে নতুন হাইকমিশনার সরাসরি পর্যটন ভিসা চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে আছে। তাই এখন নজর থাকবে ভারতীয় হাইকমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপে। ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে, কোন কোন ক্যাটাগরির ভিসা আগে সহজ হবে এবং পর্যটন ভিসা কবে পুরোপুরি চালু হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম বক্তব্যে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা স্পষ্ট। তিনি দুই দেশের মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। তবে বক্তব্যকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ভিসা সেবা দ্রুত সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো, বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ চালু রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুস্তরীয়। দুই দেশের মধ্যে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, নদী, সীমান্ত, বাণিজ্য ও মানুষের গভীর যোগাযোগ। আবার আছে নানা জটিলতা ও অমীমাংসিত প্রশ্ন। তাই সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে কূটনৈতিক ভাষার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীনেশ ত্রিবেদীর আগমন সেই নতুন পদক্ষেপের শুরু হতে পারে বলে অনেকেই আশা করছেন।

ভিসা নিয়ে তার আশাবাদী কথা সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ দুই দেশের সম্পর্কের বড় পরীক্ষা অনেক সময় সীমান্তে নয়, ভিসা কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো মানুষের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়। কেউ মায়ের চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করেন। কেউ সন্তানের ভর্তি পরীক্ষার জন্য। কেউ আবার বহু বছর পর আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। তাদের জন্য সহজ, দ্রুত ও মানবিক ভিসা সেবা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও বাস্তব করে তুলতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ভারতের নতুন হাইকমিশনার তার আশ্বাস কত দ্রুত কাজে রূপ দিতে পারেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই যে ভাষায় দুই দেশের মিল, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলেছেন, তা ইতিবাচক। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও সরল। তারা চান ভিসা জটিলতা কমুক। যাতায়াত সহজ হোক। দুই দেশের সম্পর্ক কথায় নয়, কাজে আরও মানবিক হয়ে উঠুক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত