সর্বশেষ :
প্রবীণদের জন্য রেল ভাড়া মওকুফ ও মেট্রোরেলে বিশেষ ছাড়ের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার সেনা মোতায়েনের কারণ ব্যাখ্যা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি দক্ষতাই এখন চাকরির বাজারে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা জনবল নিয়োগ দিচ্ছে বিকেএসপি, আগ্রহীদের দ্রুত আবেদন করার আহ্বান পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের, শুরু নতুন নেতৃত্বের জল্পনা আবারও কমল স্বর্ণের দাম, ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বাজারে তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার ঢলের পানি নামতেই খুলে দেওয়া হলো সাদাপাথর, ফিরছে পর্যটকদের ভিড় ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ, নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা

সন্ধ্যার মধ্যে কয়েকটি জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ২৪ বার

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্ধ্যার মধ্যে কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মেঘমালার প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রগঠনকারী মেঘ তৈরি হচ্ছে। এসব মেঘের প্রভাবে অনেক এলাকায় হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো আবহাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নদীবন্দরসংলগ্ন এলাকাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে খোলা স্থানে অবস্থানকারী মানুষ, কৃষক, জেলে এবং ছোট নৌযানের চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের বজ্রঝড় অস্বাভাবিক নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক সময় স্বল্প সময়ের মধ্যেই শক্তিশালী ঝড় তৈরি হতে পারে, যা জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তাই বজ্রপাত শুরু হলে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান এবং বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য যেমন কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত ফসলের ক্ষতির কারণও হতে পারে। বিশেষ করে আমন ধানের চারা, সবজি ক্ষেত এবং ফলবাগানগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের পরামর্শও দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নগরাঞ্চলেও ঝড়ো আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। হঠাৎ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে যানজট সৃষ্টি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জলাবদ্ধতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রবৃষ্টি ও আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের সময় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। কোথাও আকস্মিক ঝড় বা ভারী বৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার কারণে এখন আগাম সতর্কতা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি এড়ানো কঠিন। তাই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার প্রবণতা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কৃষক, নৌযান চালক, ভ্রমণকারী এবং সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সন্ধ্যার মধ্যে দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সময়মতো সতর্কতা মেনে চললে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত