প্রকাশ: ২৯ শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গৃহবধূকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে পলাতক স্বামী মোছলেম উদ্দিনকে অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। র্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই ফরিদপুর শহরের কোতোয়ালী থানার জোয়াইড় মোড় এলাকায় র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র্যাব-১০ ঢাকার যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়।
র্যাব-৭–এর স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত মোছলেম উদ্দিনকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মোছলেম চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার মধ্যম বাগাচতর গ্রামের বাসিন্দা। ১২ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল নিহত গৃহবধূর সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হন ওই নারী—এমন অভিযোগ রয়েছে ভিকটিমের পরিবারের।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ জুন মোছলেম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা একটি সিএনজি কিনতে গৃহবধূর ওপর টাকা আনার জন্য চাপ দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘরের একটি কক্ষে আটকে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৫৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নৃশংস এ ঘটনার পর নিহতের বাবা মো. নুরুল আফছার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মোছলেম উদ্দিনসহ দুইজনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা মানববন্ধন করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। অবশেষে পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় পলাতক থাকার পর র্যাবের হাতে ধরা পড়লেন মোছলেম উদ্দিন। তাঁকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।