ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসচাপায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশে সড়ক পারাপার বা চলাচলের সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ওই যুবককে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই এক্সপ্রেসওয়ের ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের গতি তুলনামূলক বেশি থাকায় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটি উচ্চগতিতে চলছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেও তদন্ত পরিচালনা করা হতে পারে।
নিহত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা কমাতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সপ্রেসওয়ে মূলত দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য নির্মিত হওয়ায় সেখানে পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলাচল এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক্সপ্রেসওয়ের আশপাশের কিছু এলাকায় এখনো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করেন। সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ পারাপারের সীমিত সুযোগ অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবরে নিহত যুবকের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ধরনের অবহেলা বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পথচারীদেরও সড়ক ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, প্রতিটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের ওপর বড় আঘাত। তাই দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসচাপায় এক যুবকের মৃত্যু আবারও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।