মানদণ্ডে না মেলায় আরামকোর এলএনজি কার্গো ফেরত

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে না পারায় সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা একটি এলএনজিবাহী জাহাজের কার্গো গ্রহণ করেনি পেট্রোবাংলা। তবে প্রত্যাখ্যাত চালানের পরিবর্তে অন্য একটি জাহাজে নতুন এলএনজি কার্গো পাঠানোর কথা জানিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আলহামরা’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি প্রায় ৬১ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে গত ১১ আগস্ট মধ্যরাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে পৌঁছায়। কিন্তু জাহাজটির নিরাপত্তা বিধান ও টার্মিনালে ভেড়ানোর উপযুক্ততা নিয়ে ঘাটতি থাকায় সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) দীন মোহাম্মদ জানান, নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি জাহাজটি। ফলে কার্গোটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, প্রত্যাখ্যাত চালানের পরিবর্তে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নতুন একটি কার্গো পাঠাবে। অর্থাৎ একটি চালান গ্রহণ না করলেও দেশে এলএনজি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি-গ্লোবালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নুরুল আলম জানিয়েছেন, ‘আলহামরা’ তখনও মহেশখালী এলাকায় অবস্থান করছিল। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে তখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পৌঁছেনি বলে তিনি জানান।

আলহামরা প্রায় ২৯ বছর পুরোনো একটি ‘মস-টাইপ’ এলএনজি ক্যারিয়ার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার। প্রায় ২৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৪৮ মিটার প্রশস্ত জাহাজটির ড্রাফট ১১ দশমিক ৩ মিটার। এতে গোলাকার ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি পরিবহন করা হয়।

মহেশখালী উপকূলে পৌঁছানোর পর জাহাজটি সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর কাছাকাছি অবস্থান নেয়। তবে প্রয়োজনীয় সংযোগ ও খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস নামানো সম্ভব হয়নি।

এফএসআরইউতে এলএনজি গ্রহণের ক্ষেত্রে জাহাজের আকার, কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, টার্মিনালের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা এবং প্রয়োজনীয় সংযোগসহ একাধিক বিষয় যাচাই করা হয়। এসব শর্ত পূরণ না হলে জাহাজকে টার্মিনালে এনে কার্গো খালাসের অনুমতি দেওয়া হয় না।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এলএনজি অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করা হয় এবং তা খালাসের সময় জাহাজ ও টার্মিনালের মধ্যে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একটি কার্গো গ্রহণ না করার কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেও জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক দীন মোহাম্মদ বলেন, অন্যান্য কার্গো আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং নিয়মিতভাবেই এলএনজি কেনা ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আমদানি করা এলএনজির গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দিয়ে মোট চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে আসছে পেট্রোবাংলা।

মহেশখালী ও আশপাশের এলাকায় থাকা ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটগুলোতে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণের পর তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ফলে কোনো কার্গো নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করা না গেলে বিকল্প চালানের ব্যবস্থা করা সরবরাহের ধারাবাহিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, প্রত্যাখ্যাত কার্গোর জায়গায় বিকল্প একটি চালান পাঠানো হবে। পাশাপাশি অন্যান্য নির্ধারিত কার্গোর মাধ্যমে দেশে এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

ঘটনাটি একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো প্রতিটি জাহাজকে টার্মিনালের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। জাহাজটি নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে কার্গো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে পেট্রোবাংলা বিকল্প কার্গো আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে ‘আলহামরা’ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে দেশের সামগ্রিক এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছে সংস্থাটি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত