প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চার কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শেষে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তা সংগঠনের নজরে আসার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজন কর্মীকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত চারজন হলেন শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম এবং মামুন হোসেন। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বহিষ্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও দলীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কর্মসূচি-পরবর্তী সময় বক্তব্য প্রদান এবং সংবাদ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে। গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকদের অবাধে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম দায়িত্ব বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশিত বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের বাসায় যান। সেখানে তারা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দলীয়ভাবে একটি বিবৃতিও প্রদান করা হয়, যেখানে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা সহিংসতার ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এ কারণে অনেক দলই এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ বেছে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে কর্মী-সমর্থকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ বজায় রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অপরিহার্য। কারণ গণমাধ্যম সমাজের বিভিন্ন ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায় নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও মত প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শনের যেকোনো ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই ধানমন্ডির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল, কর্মী-সমর্থক এবং গণমাধ্যমের মধ্যে আরও দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।