মুদি দোকানসহ ১৬ খাত আসছে ভ্যাটের আওতায়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে মুদি দোকানসহ ১৬টি ব্যবসায়িক খাতকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও খুচরা ব্যবসার একটি বড় অংশ নতুন ভ্যাট কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবে।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা জানতে চান, গত অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর থেকে সরকারের কত রাজস্ব এসেছে এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ আরও বাড়াতে এবং কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে নতুন কিছু ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের খুচরা বিক্রেতা, কনফেকশনারি, প্রসাধনী বা কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট ও স্যানিটারি ফিটিংসের দোকান, টাইলস ব্যবসা, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্টের ব্যবসা, আসবাবপত্রের দোকান, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং রেস্টুরেন্টকে এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা এমন একটি কাঠামো যেখানে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসার জন্য জটিল হিসাবভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে নির্ধারিত হারে বা নির্দিষ্ট কাঠামোয় কর পরিশোধের সুযোগ থাকে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কর পরিশোধ প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে এবং রাজস্ব প্রশাসনের জন্যও তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানো এখন অন্যতম অগ্রাধিকার। বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি কমানো এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির একটি অংশকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যও রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়নের সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা, হিসাব সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবসা পরিচালনার অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, নতুন ভ্যাট কাঠামো বাস্তবায়নের আগে ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজ ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে এ উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একটি অংশও দীর্ঘদিন ধরে সহজ ও স্বচ্ছ ভ্যাট ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, জটিল নিয়মের পরিবর্তে সহজ ও নির্ধারিত কাঠামোর ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসা পরিচালনা যেমন সহজ হবে, তেমনি কর পরিশোধে আগ্রহও বাড়বে। তবে নতুন কর আরোপের ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজস্ব সংগ্রহ আরও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের আশা, নতুন অর্থবছরে ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যাট ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধু নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে পারলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের খুচরা ও সেবা খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসা প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট ভ্যাট কাঠামোর আওতায় আসবে। ফলে রাজস্ব আহরণে নতুন গতি আসার পাশাপাশি কর ব্যবস্থার পরিধিও আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত