নকআউটের লড়াইয়ে মুখোমুখি মিসর ও ইরান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ স্পোর্টস ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ম্যাচই এখন হয়ে উঠেছে ‘করো বা মরো’ লড়াই। ‘জি’ গ্রুপেও অপেক্ষা করছে এমনই এক উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথ। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিসর এবং এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ইরান। বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ।

গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মিসর। অন্যদিকে টানা দুটি ড্র করে দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ইরান। ফলে শেষ ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে দুই দলের বিশ্বকাপ ভাগ্য। মিসরের জন্য সমীকরণ তুলনামূলক সহজ। একটি ড্র পেলেই তারা নিশ্চিতভাবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। আর জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২-এ উঠবে। বিপরীতে ইরানের সামনে রয়েছে কঠিন সমীকরণ। নকআউট নিশ্চিত করতে হলে তাদের জয়ের বিকল্প নেই।

বিশ্বকাপের শুরুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই করেছিল মিসর। শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। সেই ম্যাচে রক্ষণ ও মাঝমাঠে দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল উপহার দেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের পথে বড় পদক্ষেপ নেয় দলটি। সেই জয়ে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

মিসরের সবচেয়ে বড় শক্তি অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড ইতোমধ্যেই দুই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। কোচিং স্টাফের আশা, ইরানের বিপক্ষেও দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন লিভারপুল তারকা। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন পূরণে সালাহর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বই মিসরের সবচেয়ে বড় ভরসা।

অন্যদিকে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ২০ নম্বরে থাকা ইরান এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনাময় ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে আলোচনায় ছিল। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে তারা লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেয়। এরপর শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা আবারও প্রমাণ করে।

বিশেষ করে বেলজিয়াম একসময় ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছিল। তবে কোচ আমির গালেনোইয়ের দল ধৈর্য ও শৃঙ্খলা ধরে রেখে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নেয়। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে ইরান, যা দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এবার ড্র নয়, নকআউট নিশ্চিত করতে হলে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাদের।

দলগত পরিস্থিতিও দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের স্কোয়াডে বড় ধরনের চোটের সমস্যা না থাকলেও রুজবেহ চেশমির অনুপস্থিতি মাঝমাঠে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলা একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। অভিজ্ঞ উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবাখশ শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর গতি ও অভিজ্ঞতা ইরানের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মিসরের শিবিরেও রয়েছে কিছু দুশ্চিন্তা। মিডফিল্ডার হামদি ফাথি হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে রামি রাবিয়া একাদশে জায়গা পেতে পারেন। এছাড়া ডিফেন্ডার হোসাম আবদেলমাগুইদের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কোচিং স্টাফ আশাবাদী, মূল খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি কেবল নকআউট নিশ্চিত করার লড়াই নয়; এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও সংঘর্ষ। মিসর যেখানে দ্রুত আক্রমণ এবং সালাহকে কেন্দ্র করে আক্রমণ সাজায়, সেখানে ইরান সংগঠিত রক্ষণ, শারীরিক সক্ষমতা এবং দলগত সমন্বয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ যে দল নিতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটি জয় যেমন দলকে সরাসরি নকআউটে পৌঁছে দিতে পারে, তেমনি একটি ভুল পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিশ্চিত করতে পারে। তাই সিয়াটলের এই ম্যাচে দুই দলই শুরু থেকেই সতর্ক এবং পরিকল্পিত ফুটবল খেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে বিশেষ করে মোহাম্মদ সালাহর পারফরম্যান্সের দিকে। একই সঙ্গে ইরানের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব। কারণ এই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে কে সরাসরি নকআউট পর্বে যাবে এবং কার বিশ্বকাপ যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকবে।

সব মিলিয়ে নকআউটের টিকিট, গ্রুপ সেরার মর্যাদা এবং ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন—এই তিনটি লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে মিসর ও ইরান। তাই সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াই ‘জি’ গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত