প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, জনগণের একটি বড় অংশের মতামত ও প্রত্যাশা যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমিরের দাবি, সরকার জনগণের বিপুল অংশের দেওয়া গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর মতে, জনগণের মতামত উপেক্ষা করায় দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের কাছে গিয়ে তাদের অধিকার ও দাবির বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে।
ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থানে থাকতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অব্যাহত থাকবে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে গাইবান্ধা ও লক্ষ্মীপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত মাত্রায় দেখা যাচ্ছে না। তিনি বিশেষভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সরকার যদি জনকল্যাণমূলক বা ইতিবাচক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী তা সমর্থন ও সহযোগিতা করবে। অন্যদিকে, জনগণের স্বার্থবিরোধী বা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দলটি তার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে তাঁর দল নীরব থাকবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অধিকার আদায়ের প্রশ্নে জনগণের অংশগ্রহণই হবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রধান ভিত্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরকার, নির্বাচন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে। বিরোধী দলগুলো সরকারবিরোধী অবস্থান তুলে ধরলেও সরকার বিভিন্ন সময় তাদের সমালোচনার জবাবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জনসভা, মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনগণের অধিকার বিষয়ে তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
এ প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্য বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে।