জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ইকুয়েডর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ স্পোর্টস ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আরেকটি বড় অঘটনের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দল ইকুয়েডর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এই জয়ে ২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের শেষ ৩২-এ খেলবে ইকুয়েডর।

শুক্রবার (২৬ জুন) অনুষ্ঠিত গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কাগজে-কলমে স্পষ্ট ফেবারিট ছিল জার্মানি। আগের দুই ম্যাচ জিতে তারা আগেই নকআউট নিশ্চিত করেছিল। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে পরাজয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র করায় কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ইকুয়েডর। নকআউটে যেতে হলে তাদের জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই চাপের ম্যাচেই অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরুতেই জার্মানি এগিয়ে গিয়ে নিজেদের আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয়। খেলা শুরুর মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের থ্রো-ইন থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজের দারুণ সমন্বয়ের পর বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন লেরয় সানে। এত দ্রুত গোল হজম করার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন জার্মানি সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।

কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে ইকুয়েডর। গোল হজমের ধাক্কা সামলে তারা দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে এবং আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। নবম মিনিটেই জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন পেদ্রো ভিতে। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শট নেন নিলসন আঙ্গুলো। জার্মান অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার সেই শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন। সমতায় ফেরার পাশাপাশি এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল।

গোল শোধ করার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় ইকুয়েডরের ফুটবলারদের। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি তারা দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল অবলম্বন করে জার্মান রক্ষণকে একাধিকবার চাপে ফেলে। অন্যদিকে জার্মানি বলের দখল ধরে রাখলেও আক্রমণে প্রয়োজনীয় ধার দেখাতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই ম্যাচ জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণের গতি বাড়ায়। জার্মানি কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ইকুয়েডরের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সেগুলো সফল হয়নি। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। একটি কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার এগিয়ে এলেও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাঁ পায়ের আলতো স্পর্শে বল জালে পাঠান গঞ্জালো প্লাতা। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর।

শেষ দিকে জার্মানি সমতা ফেরানোর জন্য একের পর এক আক্রমণ চালালেও ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ছিল অনড়। নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের চাপ সফলভাবে সামলে শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

এই জয়ের গুরুত্ব কেবল নকআউট নিশ্চিত করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ইতিহাসে দুইবার মুখোমুখি হলেও কখনো জার্মানিকে হারাতে পারেনি ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ৩-০ গোলে এবং ২০১৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তারা। দীর্ঘদিনের সেই ব্যর্থতার ইতিহাস এবার বদলে দিল ইকুয়েডর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেই চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল দলটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইকুয়েডরের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল দলগত শৃঙ্খলা, কার্যকর রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও তারা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। ম্যাচজুড়ে খেলোয়াড়দের পরিশ্রম, সংগঠিত ডিফেন্স এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা জয় এনে দিয়েছে।

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও ইকুয়েডর নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছিল। শক্তিশালী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া দলটি গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত ছন্দে ছিল না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলেছে। সেই পারফরম্যান্সই তাদের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফিরিয়ে এনেছে।

অন্যদিকে, আগেই নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানির জন্য এই পরাজয় একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গ্রুপপর্বে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখালেও শেষ ম্যাচে রক্ষণে ভুল এবং সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে হারতে হয়েছে ইউরোপের অন্যতম সফল দলটিকে। নকআউট পর্বে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ এখন জার্মান কোচিং স্টাফের সামনে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিয়েছে ইকুয়েডর ও জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে ইকুয়েডর। এই জয় শুধু নকআউটের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্ব ফুটবলে তাদের নতুন সম্ভাবনার বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত