ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার, সুশাসন, আইনের শাসন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক অ্যাটাশে এমিলি পালাউয়ানও রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে খোলামেলা মতবিনিময় হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল ও আস্থাশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বও উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়মিত সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চর্চার স্বাভাবিক অংশ। এসব বৈঠকে সাধারণত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে এসব বৈঠকে আলোচিত বিষয়কে সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিগত অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও তথ্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের মধ্যে ফ্রান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশ নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গঠনমূলক আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত