হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৬ হাজারের বেশি হাজি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। ফিরতি ফ্লাইটের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত মোট ১৮০টি ফ্লাইটে ৬৬ হাজার ১৭৪ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী এসব হাজির দেশে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। হজ কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে এখন বাকি হাজিদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত হজ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৭১৫ জন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অবশিষ্ট হাজিদের ফিরিয়ে আনতে বিমান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

হজ বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবার ফিরতি যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। জাতীয় এই বিমান সংস্থাটি ৯৭টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৫৭৩ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৬১টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৭২৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন হাজিকে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার ২০০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিদের ফিরিয়ে আনতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত ফিরতি হজ ফ্লাইট চলবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে ৫৫ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। তবে এবারের হজ মৌসুমে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তিদায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ জন হাজি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ হজ মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো মোট ৬৭ হাজার ৩৬ জন হাজিকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে।

হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতেও ছিল বিশেষ উদ্যোগ। মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত আইটি হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৩৮৩ জন বাংলাদেশি হাজিকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য, দিকনির্দেশনা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন তথ্যসেবা এবং সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে অনেক হাজি প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল। ওই দিন প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটে বাংলাদেশি হজযাত্রীরা সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পরবর্তীতে ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হয়। চলতি বছর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ মে থেকে শুরু হয় ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

হজ অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনের জন্য কোটা বরাদ্দ ছিল। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত হাজিদের হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হজ অফিস, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

হজ ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসলমান সৌদি আরবে সমবেত হয়ে ইসলামের এই অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ইবাদত পালন করেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফর করেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা হাজিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বিমানবন্দরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত