সরকারকে কড়া সমালোচনা, আপস করবে না জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েছে এবং এসব ঘটনায় তাঁর দলের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের পাঁচজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক আচরণে আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গাইবান্ধায় আহত ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দখল ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারি দলের কয়েকজন নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যও সহিংসতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি উসকানিমূলক বক্তব্য দেশে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আচরণের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বর্তমান সরকারি দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পথ ধরেই হাঁটছে।” তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত; এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, তাঁর দল নীতিগত প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। তিনি দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দেশে আবারও বড় ধরনের গণআন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি “আবার একটি জুলাই আসবে” বলে যে মন্তব্য করেন, সেটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে গাইবান্ধায় আহত ছাত্রশিবির নেতা সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন ডা. শফিকুর রহমান। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং আহত নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার, নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের সমালোচনা করলেও সরকার বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা বা হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ সম্মেলন, জনসভা ও মতবিনিময় সভা করছে। এসব কর্মসূচিতে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক সংলাপ, সহনশীলতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত