প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ স্পোর্টস ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাসের অপেক্ষা। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া তরুণ ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী আজ আন্তর্জাতিক অভিষেকের সুযোগ পেলে কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের প্রায় ৩৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিজের নাম লেখাবেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছেন এই কিশোর ব্যাটার। জাতীয় দলের একাদশে সুযোগ পেলে বয়সের বিচারে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।
ভারতের নতুন টি-টোয়েন্টি যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে এই সিরিজ দিয়েই। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। সাম্প্রতিক স্কোয়াডে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এসেছে। অভিজ্ঞ ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব দলে না থাকায় তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিজেই একটি বিরল ঘটনা। ভারতের মতো ক্রিকেটপ্রধান দেশে জাতীয় দলে জায়গা পেতে সাধারণত দীর্ঘ সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বয়সকে পিছনে ফেলে নিজের প্রতিভা ও ধারাবাহিক নৈপুণ্যের মাধ্যমে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন বৈভব। তাই তাঁর সম্ভাব্য অভিষেককে ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার রেকর্ডটি রয়েছে কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের দখলে। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। একই বছর ১৬ বছর ২৩৮ দিন বয়সে ওয়ানডে অভিষেকও করেন তিনি। কৈশোরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখে পরবর্তীতে শচিন গড়ে তোলেন বিশ্বের অন্যতম সফল ক্রিকেট ক্যারিয়ার। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর এই বয়সসংক্রান্ত রেকর্ড অক্ষত রয়েছে।
অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত ক্রিকেটারের রেকর্ডটি ওয়াশিংটন সুন্দরের। তিনি ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর ৮০ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক করেন। বৈভব যদি আজ মাঠে নামেন, তবে শুধু শচিনের আন্তর্জাতিক অভিষেকের বয়সের রেকর্ডই নয়, টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও নতুন ইতিহাস গড়বেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বৈভব সূর্যবংশীর মধ্যে আধুনিক ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মানসিকতা এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সমন্বয় রয়েছে। বয়স কম হলেও বড় মঞ্চে খেলার মানসিক প্রস্তুতি এবং চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাই নির্বাচকরাও তাঁর ওপর আস্থা রাখতে দ্বিধা করেননি।
তবে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের সুযোগ পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ইনিংসই কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত একজন ক্রিকেটারের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারণ করে। ফলে সম্ভাবনার পাশাপাশি বৈভবের সামনে থাকবে প্রত্যাশার বড় চাপও।
ভারতীয় ক্রিকেটে কিশোর বয়সে অভিষেকের ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। শচিন টেন্ডুলকারের পর অনেক তরুণ ক্রিকেটার দ্রুত জাতীয় দলে এলেও খুব কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার ঘটনা বিরল। সে কারণেই বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ অনেক বেশি।
আয়ারল্যান্ড সফরটি ভারতের জন্য ভবিষ্যৎ তারকাদের যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। নিয়মিত কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে নতুনদের নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ মিলছে। এই সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে বৈভবের সামনে জাতীয় দলে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হবে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখন তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দ্রুত জাতীয় দলের পরিবেশে নিয়ে আসার কৌশলের অংশ হিসেবেই বৈভবের অন্তর্ভুক্তিকে দেখছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও ধারাবাহিক সুযোগ পেলে তিনি ভবিষ্যতে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারেন।
এখন সব নজর থাকবে বেলফাস্টের ম্যাচের দিকে। চূড়ান্ত একাদশে যদি বৈভব সূর্যবংশীর নাম থাকে, তাহলে ভারতীয় ক্রিকেটে সূচনা হবে নতুন এক অধ্যায়ের। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিতে পারেন শচিন টেন্ডুলকারের প্রায় চার দশক ধরে অক্ষুণ্ন থাকা ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং নিজের নাম লিখতে পারেন ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে।