জামায়াতে কোনো লেজুড়বৃত্তির সুযোগ নেই: গোলাম পরওয়ার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার
জামায়াতে কোনো লেজুড়বৃত্তির সুযোগ নেই: গোলাম পরওয়ার

প্রকাশ: ১১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের আদর্শিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে, তাদের সংগঠনে কোনো ধরনের দলীয় লেজুড়বৃত্তির কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দ্বীন কায়েমের মহান আদর্শ বাস্তবায়ন করা। মানুষের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মতিঝিল-শাহজাহানপুর জোন আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ রুকন শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের গভীর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সাধারণ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মতো চিন্তা করা মোটেও শোভনীয় নয়। এখানে প্রতিটি কাজের পেছনে থাকতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা। যখন কেউ এই আদর্শ নিয়ে কাজ করেন, তখন সেখানে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থপরতা বা লেজুড়বৃত্তির স্থান থাকে না। তিনি রুকনদের উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে শপথবদ্ধ হয়ে এই আন্দোলনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতিফলন। কোনো চাপের মুখে বা প্রলোভনে পড়ে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ এই সংগঠনের কর্মীদের নেই।

ইসলামী আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্বীন কায়েমের এই পথে কেবল দায়সারা কাজ করলেই হবে না, বরং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষায়, একজন মুমিনের জন্য নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত যেমন ফরজ বা অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত, তেমনি আল্লাহর পথে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজের সবকিছু বিলিয়ে দেওয়াও এক ধরণের ইবাদত। তিনি বলেন, প্রয়োজনে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এই ত্যাগের মানসিকতাই জামায়াত কর্মীদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি কখনো পার্থিব কোনো মোহে আটকে থাকতে পারেন না।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমবেত কর্মীদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শক্তি হলো এর আদর্শিক ভিত্তি এবং কর্মীদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব। দলের ভেতরে লেজুড়বৃত্তির কোনো জায়গা নেই বলে তিনি যে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তা কর্মীদের মনোবল আরও সুদৃঢ় করবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন।

সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং মতিঝিল-শাহজাহানপুর জোন পরিচালক মুহাম্মদ শামছুর রহমান। তিনি রুকনদের শপথের মর্যাদা রক্ষা করে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। দীর্ঘ এই শিক্ষা শিবিরে অংশগ্রহণকারী রুকনরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। লেজুড়বৃত্তিহীন একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিটি কর্মীকে সর্বদা সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই শিক্ষা শিবির থেকে।

মূলত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও তাদের সাংগঠনিক দৃঢ়তা দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লেজুড়বৃত্তির যে প্রবণতা প্রায়শই দেখা যায়, তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ধারা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্যটি কেবল রুকনদের জন্যই নয়, বরং যারা জামায়াতের রাজনীতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা এবং সংগঠনের আদর্শগত বিশুদ্ধতা রক্ষা করার চ্যালেঞ্জটি কতটা প্রবল, তা আজকের অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

পরিশেষে, দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই দীর্ঘ পথচলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা তাদের আদর্শিক অটলতার মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার প্রবর্তন করতে চান। গোলাম পরওয়ারের কণ্ঠে শোনা গেছে সেই প্রত্যয়, যেখানে পার্থিব কোনো চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই বড় করে দেখা হয়েছে। লেজুড়বৃত্তিমুক্ত এই রাজনীতি দেশের মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং এই ত্যাগের আদর্শ কতটা বাস্তব রূপ লাভ করে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্লেষকরা। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মনে করছেন, আদর্শিক অটলতা এবং কর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগই পারে একটি কল্যাণকামী সমাজ গঠনে সফল হতে, যেখানে লেজুড়বৃত্তির মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত