প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে এক বছরের পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেতা ও মডেল মুজাম্মিল ইব্রাহিম। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ নতুন দাবি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বিশেষ করে দীপিকার সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং ‘আমার কোনো আফসোস নেই’—এমন মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে অবশেষে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মুজাম্মিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মুজাম্মিল ইব্রাহিম দাবি করেন, বর্তমানে যেটিকে নতুন সাক্ষাৎকার হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, সেটি আদতে এক বছরেরও বেশি আগে ধারণ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ আলাপচারিতার খুব ছোট ছোট অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলে গেছে।
মুজাম্মিল তাঁর বিবৃতিতে লেখেন, বর্তমানে যে ভিডিও ক্লিপগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলো একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের সম্পাদিত অংশমাত্র। সম্পাদনার কারণে তাঁর বক্তব্যের দ্বিধা, প্রেক্ষাপট এবং সম্মানজনক উপস্থাপনা হারিয়ে গেছে। ফলে অনেকেই তাঁর মন্তব্যের প্রকৃত অর্থ না বুঝেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি সব সময়ই সংযত থাকার চেষ্টা করেছেন। অতীতে যাঁরা তাঁর জীবনের অংশ ছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে কখনো অসম্মানজনক মন্তব্য করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না বলেও জানান তিনি।
মুজাম্মিলের ভাষায়, জীবনের প্রতিটি সম্পর্কই সম্মানের দাবি রাখে। তিনি বলেন, অন্য সবার মতো তিনিও নিজের কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। এখন তিনি চান আলোচনাও তাঁর বর্তমান কাজকে ঘিরেই হোক, অতীতের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নয়। তাঁর মতে, সত্য কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই সত্য অবশ্যই সম্মানজনক ভাষায় প্রকাশ করা উচিত।
বর্তমান বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের জুন মাসে সাংবাদিক সিদ্ধার্থ কাননের ইউটিউব অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার থেকে। সেই সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে নিজের অতীত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন মুজাম্মিল ইব্রাহিম। তবে তখন বিষয়টি তেমন আলোচনায় না এলেও সম্প্রতি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মুজাম্মিল দাবি করেছিলেন, মুম্বাইয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে দীপিকা পাড়ুকোনই প্রথম তাঁকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, তাঁদের সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত তিনিই নিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমি কাউকে ছেড়ে আসার জন্য কখনো আফসোস করি না। তখন আমি তারকা ছিলাম, সে ছিল একজন মডেল। এখন সে সুপারস্টার, আর আমাকে অনেকেই চেনে না। কিন্তু আমি তার বড় ভক্ত।”
এই বক্তব্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। অনেকেই তাঁর মন্তব্যকে আত্মপ্রচারমূলক কিংবা দীপিকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ অংশ না দেখে শুধুমাত্র কয়েকটি ক্লিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
সাক্ষাৎকারে মুজাম্মিল আরও দাবি করেছিলেন, মুম্বাইয়ে আসার পর দীপিকা পাড়ুকোনের প্রথম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাঁর সঙ্গে। বিচ্ছেদের পরও কয়েক বছর তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব বজায় ছিল এবং নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ হতো। তবে দীপিকার বিয়ের পর সেই যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীপিকার বর্তমান সাফল্য দেখে তাঁর কখনোই ঈর্ষা হয়নি। বরং একজন সহকর্মী এবং পুরোনো পরিচিত হিসেবে তিনি সবসময় দীপিকার সাফল্যে আনন্দিত। তাঁর মতে, দীপিকা নিজের মেধা, পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন, যা প্রশংসার দাবিদার।
বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো সাক্ষাৎকার বা ভিডিও নতুনভাবে ভাইরাল হওয়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। অনেক সময় সম্পাদিত ছোট ভিডিও ক্লিপ পুরো বক্তব্যের ভিন্ন অর্থ তৈরি করে, যার ফলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জনপ্রিয় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকায় এ ধরনের বিষয় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এদিকে এই বিতর্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত দীপিকা পাড়ুকোন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি বর্তমানে নিজের নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং’-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। চলচ্চিত্রটির কাজ শেষ করার পর তিনি মাতৃত্বকালীন বিরতিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে জানা গেছে।
বলিউড অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পুরোনো তথ্য বা সাক্ষাৎকার নতুনভাবে সামনে এলেও সেগুলো প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্পাদিত বা আংশিক ভিডিও অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না।
মুজাম্মিল ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যাও মূলত সেই বার্তাই দিয়েছে। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কখনোই দীপিকা পাড়ুকোনকে বিব্রত করা বা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় আনা নয়। বরং ভুল ব্যাখ্যা ও অসম্পূর্ণ ভিডিও ক্লিপের কারণে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটির অবসান ঘটাতেই তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।