বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.০৮ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.০৮ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সরকারের বৈদেশিক দায়-দেনা পরিশোধ, আন্তর্জাতিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত ‘ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল’ বা বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান সূচক। বাংলাদেশ ব্যাংক মূলত এই রিজার্ভ ব্যবহার করে সরকারের বৈদেশিক দায়-দেনা পরিশোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত অর্থপ্রদান এবং প্রয়োজনীয় সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য থাকায় বিনিময় হারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এর ফলে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে উল্লেখযোগ্য কোনো ডলার সংকট নেই।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের উন্নতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতে নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপও রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ এবং আইএমএফের বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ গ্রস রিজার্ভে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে কেবল সহজে ব্যবহারযোগ্য বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গণনাযোগ্য বৈদেশিক সম্পদ বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাধারণত বিপিএম–৬ অনুযায়ী হিসাব করা রিজার্ভকেই তুলনামূলক সূচক হিসেবে ব্যবহার করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী সুরক্ষা দেয়। এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ও শক্তিশালী রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, সরকার বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও স্থিতিশীল রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দামের ওঠানামার মধ্যেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমদানিকারকরা প্রয়োজনীয় ডলার সংগ্রহ করে নির্বিঘ্নে এলসি খুলতে পারছেন এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের কোনো বাধা তৈরি হয়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শুধু বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রিজার্ভের ধারাবাহিক উন্নতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছেও দেশের আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

তবে তাঁরা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, রিজার্ভের ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে এসব পদক্ষেপই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়তা করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতেও আস্থার পরিবেশ বজায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত