স্টার্টআপে তরুণদের নতুন স্বপ্ন, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
স্টার্টআপে তরুণদের নতুন স্বপ্ন, ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতিকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় আরও শক্তিশালীভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান। উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার, কৃষি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রযুক্তি, আর্থিক প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের সৃজনশীল সক্ষমতাকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ পাবেন, যা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই তহবিল সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নতুন চিন্তাকে যথাযথ সহায়তা দেওয়া গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশই প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোগকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন তরুণ উদ্যোক্তা সরকারের ঘোষিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তবে তারা সহজ অর্থায়ন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই উদ্যোক্তা শিক্ষা ও উদ্ভাবনচর্চাকে আরও বিস্তৃত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক সফল স্টার্টআপ গড়ে উঠবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরাও অনুষ্ঠানে উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে গবেষণার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম এবং গবেষণার বাণিজ্যিক প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা শুধু নতুন কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং দেশের অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। সরকারের ঘোষিত স্টার্টআপ ফান্ড এবং নীতিগত সহায়তা সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে তুলে ধরার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত