২০২৯ সালে চালু হচ্ছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
২০২৯ সালে চালু হচ্ছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ২০২৯ সালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এ বন্দর চালু হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত উদ্যোগ, যা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ চলাচলের জন্য বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী বন্দরে প্রায় ১৬ মিটার গভীরতার একটি আধুনিক নৌ-চ্যানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কনটেইনার টার্মিনাল, জেটি, নৌযান পরিচালনা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব সুবিধা চালু হলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বড় আকারের কনটেইনারবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং প্রায় এক লাখ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বাল্ক কার্গো জাহাজ সরাসরি মাতারবাড়ী বন্দরে নোঙর করতে পারবে। বর্তমানে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে যে আকারের জাহাজ প্রবেশ করে, তার তুলনায় প্রায় চার গুণ বড় জাহাজ এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। ফলে আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্টের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই হ্রাস পাবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য এবং ভারী শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও শিল্পযন্ত্র দ্রুত খালাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ট্রানজিট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে এই বন্দরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হবে বলে সরকার আশা করছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো গভীর সমুদ্রবন্দর একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। বড় জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারলে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় কমে যায়, আমদানি-রপ্তানি দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশও উন্নত হয়। ফলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার অঞ্চলে নতুন শিল্প, লজিস্টিকস ও সেবা খাতের বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বন্দরকে ঘিরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামোও সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে সড়ক, রেল এবং অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোর সমন্বিত সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে পণ্য দ্রুত বন্দরে পৌঁছানো এবং বিদেশে রপ্তানি সহজ হবে। পাশাপাশি আমদানিকৃত পণ্যও স্বল্প সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আধুনিক সমুদ্রবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতি যেহেতু রপ্তানিনির্ভর, তাই গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছেও বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত