প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে পাংশা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেঁকিপাড়া গ্রামে ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার পর রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম জানান, তার মা সুন্দরী বেগমের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় ১৪ শতাংশ শরিকানা জমিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিরোধ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আমিরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে তার নানাবাড়ির দিকের আত্মীয় মাজেদ শেখ, তার ছেলেসহ কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সে সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন এবং তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেবল তার বৃদ্ধ মা অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে বৃদ্ধাকে গালিগালাজ করেন এবং পরে বসতবাড়ির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা আধাপাকা ঘরসহ মোট চারটি ঘর এবং একটি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত করেন। পাশাপাশি ঘরে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন, প্রায় ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যান। তার অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, হঠাৎ করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় কেউ সরাসরি বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। পরে বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তিনি বলেন, রাতের দিকে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যেহেতু জমি সংক্রান্ত বিরোধটি আদালতে বিচারাধীন, তাই হামলার অভিযোগ এবং সম্পত্তি বিরোধ—দুই বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক বা শরিকানা সম্পত্তির বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা কখনো কখনো সংঘর্ষ বা সহিংসতার রূপ নেয়। তারা মনে করেন, আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা এবং সামাজিকভাবে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্র প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে এবং কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি বিরোধেরও দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।