পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় নিহত ২

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার
পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশ: ১৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাবনার আতাইকুলা এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ দুইজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক শিশুর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা যখন নিজ বাড়ির পথে ফিরছিলেন, তখনই ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। একটি পরিবারের শোকের যাত্রা মুহূর্তেই আরও গভীর বেদনায় রূপ নেয়, আর প্রাণ হারান শিশুটির নানী ও অ্যাম্বুলেন্সচালক।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী আলিম মডেল মাদরাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু কেয়া খাতুনের মরদেহ বহন করে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সটিতে শিশুটির কয়েকজন স্বজনও ছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (২৮) এবং মরদেহের সঙ্গে থাকা শিশুটির নানী বুলু খাতুন (৫৭)। নিহত রাজ শেখ পাবনা শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা এবং বুলু খাতুন সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের যাত্রী উভয় পক্ষের কয়েকজন রয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর নিহত দুইজনের মরদেহ এবং অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্স ও বাস জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণেই এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি শিশুর মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা পাবনার সাঁথিয়ায় ফিরছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সচালক এবং শিশুটির এক স্বজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ট্রাফিক তদারকি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকদের দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং অনেক ক্ষেত্রে সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে রোগীবাহী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবরে নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম নেমে এসেছে। যে পরিবারটি এক শিশুর মরদেহ নিয়ে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই পরিবারের ওপর নেমে আসে আরও বড় ট্র্যাজেডি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বাসচালক ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত