কাতার সফর শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ বার
কাতার সফর শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম কাতারে সংক্ষিপ্ত সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। কাতারের সাবেক আমির ও বর্তমান আমিরের পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানির মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানাতে তিনি দোহা সফর করেন। সফরকালে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্পিকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সফর শেষে দেশে ফেরার মাধ্যমে কাতারে তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মিশনের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে ১৪ জুলাই দুপুরে স্পিকার সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল কাতারের সাবেক আমির ও বর্তমান আমিরের পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানির মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসারে রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকারের এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্পিকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তা তাঁর হাতে তুলে দেন। শোকবার্তায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে এই শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ কাতারের জনগণের পাশে রয়েছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

স্পিকার সাক্ষাৎকালে বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

শোকবার্তা হস্তান্তরের পাশাপাশি স্পিকার কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া পারস্পরিক সফর, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা বিনিময় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্মান, বন্ধুত্ব এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন। বাংলাদেশের মতো ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকারের এই সফর কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে কাতারে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি কাতারও বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন খাতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

পররাষ্ট্র বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের এই ধরনের সফর ও সৌজন্য বিনিময় ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক সমর্থন ও সমন্বয় বৃদ্ধিতেও এসব সফরের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

দেশে ফিরে স্পিকারের সফরকে সফল ও ফলপ্রসূ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাতারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত