এমবাপ্পেকে টপকে গোল্ডেন বুটে এগিয়ে মেসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ বার
এমবাপ্পেকে টপকে গোল্ডেন বুটে এগিয়ে মেসি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শিরোপা লড়াই যতই শেষ মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ততই জমে উঠছে ব্যক্তিগত পুরস্কারের প্রতিযোগিতাও। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন বুট নিয়ে চলছে তুমুল উত্তেজনা। সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই বিশ্বতারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনের গোলসংখ্যা সমান হলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মেসি ও এমবাপ্পের পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০২২ সালের ফাইনালে একে অপরের বিপক্ষে স্মরণীয় লড়াই উপহার দেওয়া এই দুই ফুটবলার এবার নকআউট পর্বে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাননি। তবুও ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে রয়েছে। বিশেষ করে গোল্ডেন বুটের হিসাব-নিকাশ এখন নির্ভর করছে শুধু গোলের ওপর নয়, বরং অ্যাসিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের ওপরও।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে গোল করতে না পারলেও পুরো ম্যাচজুড়ে নিজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং সৃজনশীল ফুটবল দিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। আর্জেন্টিনার দুটি গোলই তার তৈরি করা সুযোগ থেকে আসে। ফলে ম্যাচ শেষে নিজের অ্যাসিস্টের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেন তিনি।

সেমিফাইনালের পর এবারের বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। অন্যদিকে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলও ৮টি হলেও তার অ্যাসিস্ট ৩টি। ফিফার গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট বিবেচনা করা হয়। সেই নিয়মেই বর্তমানে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান দখল করে আছেন মেসি।

বিশ্বকাপে মেসির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তিনি সমান কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সব সময় চাপে রেখেছে এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তিনি পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন। ফ্রান্সের আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। যদিও দল ফাইনালে উঠতে পারেনি, তবুও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তার সামনে গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তার গোলসংখ্যা বর্তমানে ৭টি। হালান্ডের সামনে আর কোনো ম্যাচ না থাকায় তিনি গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে মেসি কিংবা এমবাপ্পে যদি আর একটি গোলও করেন, তাহলে হালান্ডের পক্ষে তাদের ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

গোল্ডেন বুটের তালিকায় এরপর রয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম ও অধিনায়ক হ্যারি কেইন। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৬টি। ফ্রান্সের উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে ৫ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট নিয়ে অবস্থান করছেন পরের স্থানে। সমান ৫ গোল করলেও একটি অ্যাসিস্ট থাকায় স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল তার ঠিক পরেই রয়েছেন।

এই তালিকার শীর্ষ সাত ফুটবলারের মধ্যে শুধু হালান্ডের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। বাকি ছয়জনের সামনে আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। সেখানে এমবাপ্পে, দেম্বেলে, কেইন ও বেলিংহ্যাম নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এরপর ২০ জুলাই বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সেই ম্যাচে মেসি এবং ওইয়ারসাবালের সামনেও থাকবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করার সুযোগ।

বিশ্লেষকদের মতে, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও মেসির কাজ এখনো শেষ হয়নি। কারণ ফাইনালে এমবাপ্পে খেলবেন না ঠিকই, কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে যদি তিনি গোল করে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ফেলেন, তাহলে ফাইনালে মেসিকেও সেই চাপ সামলাতে হবে। আবার ফাইনালে গোল কিংবা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগও রয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে।

ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন তাই শুধু বিশ্বকাপ ট্রফির দিকেই নয়, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও। বিশ্বসেরা দুই তারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের এই অদৃশ্য প্রতিযোগিতা টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত এই সম্মান কার হাতে উঠবে, তার উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচের ফলাফল ও পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়েই।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি গোল্ডেন বুট। তাই শিরোপার পাশাপাশি এই পুরস্কারও ফুটবলারদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকার সুবাদে মেসি এগিয়ে থাকলেও শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যে কোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে পুরো সমীকরণ। ফলে বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচ শুধু দলগত লড়াই নয়, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়েও হয়ে উঠতে যাচ্ছে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত