৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়া হত্যা মামলার দণ্ডিত মোজাফফর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ বার
৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়া হত্যা মামলার দণ্ডিত মোজাফফর

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে পলাতক থাকার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা এই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার আটক করা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। যদিও অভিযানের স্থান, কৌশল কিংবা আটকের সময় তার অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য তখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর একটি হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তী সময়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ তদন্ত, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নানা রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে একাধিক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তীকালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন। মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মো. মোজাফফর হোসেন সেই পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তাকে খুঁজে বের করতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। তবে এতদিন পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ অভিযানে তাকে আটক করার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যেহেতু তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং সামরিক আদালতের বিচারসংক্রান্ত বিষয়ও এ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আটক করতে সক্ষম হওয়া দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা মনে করেন, বহু বছর পেরিয়ে গেলেও আদালতের রায় কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা আইনের শাসনের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মামলার রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যত দীর্ঘ সময়ই আত্মগোপনে থাকুন না কেন, আইনগত দায় থেকে অব্যাহতি পান না। আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তায় এবং সে দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মোজাফফর হোসেনের আটক হওয়ার ঘটনাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতার অংশ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আটকের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দীর্ঘদিনের পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মামলার বাকি পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, তিনি কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন, কীভাবে পরিচয় গোপন করেছিলেন কিংবা কতদিন ধরে তাকে নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর বক্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি বরাবরই জনআলোচনায় ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে বহু বছর পর একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির আটক হওয়ার ঘটনা মামলাটিকে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আটকের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজনের সাজা অতীতে কার্যকর হলেও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মো. মোজাফফর হোসেনের আটক সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার বাকি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত