ডক্টর অব লেটার্স পাচ্ছেন রানী মুখার্জি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার
ডক্টর অব লেটার্স পাচ্ছেন রানী মুখার্জি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভুবনে দীর্ঘ পথচলায় নিজের অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। কখনও প্রতিবাদী নারী হিসেবে, কখনও বা সমাজের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তিনি রূপালি পর্দায় হাজির হয়েছেন। এবার সেই বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের এক অনন্য স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের স্বনামধন্য লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি তাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লেটার্স’ ডিগ্রিতে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৪ আগস্ট মেলবোর্নের ফেডারেশন স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন’ (আইএফএফএম) আয়োজনের অংশ হিসেবে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হবে, যা একই সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য এক বড় মাইলফলক।

এই সম্মাননা প্রাপ্তির খবরে উচ্ছ্বসিত রানী মুখার্জি নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে এমন সম্মাননা পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। তিনি বিশ্বাস করেন, সিনেমা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক হাতিয়ার। রানীর ভাষায়, তার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলো সিনেমা, যা তাকে শিখিয়েছে কীভাবে গল্পের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে সহমর্মিতা জাগ্রত করা যায়। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ে সংলাপ তৈরিতে সিনেমার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আইএফএফএম কর্তৃপক্ষের প্রতি, যারা নিয়মিতভাবে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সিনেমাকে মর্যাদার আসনে আসীন করছে। এই উৎসবের আঙিনায় এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অভিনয়ের পাশাপাশি রানী মুখার্জি পর্দার বাইরেও দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে। বিশেষ করে নারী অধিকার, শিশুদের সুরক্ষা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি সবসময় সোচ্চার। তার এই মানবিক দিকটিই লা ট্রোব ইউনিভার্সিটিকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। গতানুগতিক ধারার সিনেমার বাইরে বেরিয়ে তিনি এমন সব চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যা কেবল দর্শককে আনন্দ দেয়নি, বরং তাদের ভাবতে শিখিয়েছে। বিশেষ করে ‘ব্ল্যাক’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘হিচকি’, ‘মার্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’র মতো সিনেমাগুলো নারীদের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার গল্প তুলে ধরেছে যা দর্শক ও সমালোচক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

রানী মুখার্জির ক্যারিয়ারের পরিক্রমা এক সংগ্রামের গল্প, যেখানে তিনি নিজের যোগ্যতায় একেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় একজন দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীর চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোচনায় স্থান পায়। অন্যদিকে ‘মার্দানি’ সিনেমায় একজন সাহসী পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি নারীশক্তির এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। সমাজের লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার পর্দার চরিত্রগুলো আজ মাইলফলক হয়ে আছে। কেবল অভিনয়ের দক্ষতাই নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার প্রসারে তার অবদান অনস্বীকার্য।

মেলবোর্ন চলচ্চিত্র উৎসবের ১০ দিনব্যাপী এই আয়োজনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৩ আগস্ট পর্দা ওঠা এই উৎসব চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। এই উৎসব কেবল সিনেমার প্রদর্শনী নয়, বরং দুই দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের এক বিশাল মঞ্চ। রানীর মতো একজন শিল্পীর এই সম্মাননা প্রাপ্তি উৎসবের গরিমা বাড়াবে বহুগুণ। আয়োজকদের মতে, রানী মুখার্জির জীবন ও কর্ম কেবল চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্যই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তার এই অর্জন প্রমাণ করে যে, শিল্পের সাধনা যখন মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা সমাজকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

এই স্বীকৃতি কেবল রানী মুখার্জির জন্য নয়, বরং প্রতিটি সেই শিল্পীর জন্য যারা নিজেদের কাজের মাধ্যমে সমাজে প্রভাব ফেলতে চান। বিনোদন জগতের চাকচিক্যের আড়ালে যে গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন, রানী তা নিজের কাজের মধ্য দিয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন। আইএফএফএম-এর মঞ্চে যখন তার হাতে এই ডিগ্রি তুলে দেওয়া হবে, তখন সেটি হবে ভারতীয় শিল্পের জয়গান। মেলবোর্নের আকাশে সেদিন পতপত করে উড়বে ভারতীয় সিনেমার পতাকা, আর সেই সাথে এক অনন্য গৌরবের অংশীদার হবেন অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। তার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা এখন অপেক্ষায় আছেন সেই বিশেষ মুহূর্তটির, যখন তাদের প্রিয় অভিনেত্রী এক নতুন পরিচয়ে, এক নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হবেন।

পরিশেষে বলা যায়, একজন শিল্পীর সার্থকতা তার অভিনয়শৈলীর চেয়েও বেশি তার কাজের গভীরতায়। রানী মুখার্জি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই গভীরতা অর্জন করেছেন। সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স ডিগ্রিটি কেবল একটি কাগজের সনদ নয়, বরং কয়েক দশকের সাধনা ও মানবিকতার স্বীকৃতি। ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, ভালো কাজের আবেদন সীমানা মানে না। মেলবোর্নের মাটিতে রানী মুখার্জির এই পদার্পণ ও সম্মাননা গ্রহণ বিশ্ব দরবারে ভারতীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে গণ্য হবে। অভিনন্দন রানী মুখার্জি, আপনি কেবল পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও অনুপ্রেরণার এক জ্বলন্ত নাম হয়ে থাকবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত