পারেদেসের মারামারিতে বাড়ছে আর্জেন্টিনার চাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪০ বার
পারেদেসের মারামারিতে বাড়ছে আর্জেন্টিনার চাপ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শেষ হওয়ার পর মাঠে উদযাপনের বদলে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। স্পেনের ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের মুহূর্তে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ফিফা ইতোমধ্যে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা শিরোপা উদযাপনে মেতে উঠলেও আর্জেন্টিনা শিবিরে নেমে আসে হতাশা। সেই হতাশাই একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, রেফারির শেষ বাঁশির কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর স্পেনের আরেক খেলোয়াড় গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এতে দুই দলের ফুটবলার, বদলি খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই ম্যাচ অফিসিয়াল এবং নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এসে দুই দলকে আলাদা করেন। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও মাঠে নেমে নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাঁদের দ্রুত মাঠ ছাড়তে নির্দেশ দেন। পুরো ঘটনার পর রেফারি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

তবে এই শাস্তিতেই বিষয়টি শেষ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি পুরো ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট, ভিডিও ফুটেজ এবং ম্যাচ কমিশনারের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা কিংবা ভবিষ্যৎ ম্যাচে নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্কাই স্পোর্টস নিউজ জানিয়েছে, তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণকে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার ভূমিকা এবং ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার আচরণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মোলিনা স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির দিকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও সেই মুহূর্তে অন্য খেলোয়াড়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা করেন।

শুধু মাঠের সংঘর্ষই নয়, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্পেন যখন বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে উদযাপন করছিল, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ইচ্ছাকৃতভাবে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়। ক্রীড়াসুলভ আচরণের পরিপন্থী এমন দৃশ্যও ফিফার নজরে এসেছে এবং সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আসরে খেলোয়াড়দের আচরণ শুধু মাঠের ফলাফল নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের কাছে একটি বার্তা বহন করে। তাই এমন মঞ্চে সহিংসতা, প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান কিংবা ক্রীড়াসুলভ আচরণবিরোধী কর্মকাণ্ডকে ফিফা সাধারণত কঠোরভাবে দেখে থাকে। অতীতেও অনুরূপ ঘটনার জন্য বিভিন্ন দল ও খেলোয়াড়কে জরিমানা, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে স্পেনের শিবিরে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেও এই সংঘর্ষ কিছুটা অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। স্প্যানিশ কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ফুটবলের সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, বিশ্বকাপের মতো একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সংঘর্ষের ঘটনায় ম্লান করা উচিত নয়।

ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ফিফার তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে পারেদেসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশ্বকাপের ফাইনালটি মাঠের লড়াইয়ে যেমন রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে, তেমনি ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনা নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর ফিফার তদন্তের দিকে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই ঘটনার পরিণতি এবং সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত