আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের দাম প্রকাশ, বিক্রি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের দাম প্রকাশ, বিক্রি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রযুক্তিপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করেছে অ্যাপল। নতুন প্রজন্মের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন দুটিতে পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কানেক্টিভিটিতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং আইফোনে প্রথমবারের মতো পরিবর্তনযোগ্য অ্যাপারচার সুবিধা।

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অ্যাপলের ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ অনুষ্ঠানে নতুন আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের ঘোষণা দেওয়া হয়। এবারের প্রো সিরিজের শুরুতেই দাম বাড়িয়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজের আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে। একই স্টোরেজের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে। আগের প্রজন্মের তুলনায় দুটি মডেলের দামই ১০০ ডলার বেশি।

নতুন ফোন দুটি নিয়ে প্রযুক্তি বাজারে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো অ্যাপলের হার্ডওয়্যার উন্নয়ন। আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন প্রজন্মের এ২০ প্রো চিপ। অ্যাপলের দাবি, নতুন চিপটি আগের প্রজন্মের তুলনায় উন্নত পারফরম্যান্স এবং শক্তি ব্যবস্থাপনা দিতে সক্ষম। চিপটির সঙ্গে উন্নত নিউরাল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে, যা ডিভাইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ এবং কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এ২০ প্রো চিপে ছয় কোরের সিপিইউ, সাত কোরের জিপিইউ এবং ডুয়াল ১৬-কোর নিউরাল ইঞ্জিন রয়েছে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, নিউরাল ইঞ্জিনের মোট কোর সংখ্যা ৩২, যা ডিভাইসে সরাসরি এআই প্রসেসিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। ফলে ছবি সম্পাদনা, ভাষা ও অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ এবং ভারী অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন আইফোন আরও শক্তিশালী অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

নতুন আইফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি ক্যামেরা। আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে শুধু রেজল্যুশন বাড়ানোই নয়, ক্যামেরা ব্যবস্থায় আনা হয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। প্রথমবারের মতো আইফোনের প্রধান ক্যামেরায় পরিবর্তনযোগ্য অ্যাপারচার যুক্ত করা হয়েছে।

অ্যাপারচার হলো ক্যামেরার লেন্সের মধ্য দিয়ে কতটা আলো প্রবেশ করবে, তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। প্রচলিত স্মার্টফোন ক্যামেরায় এই নিয়ন্ত্রণ সাধারণত সফটওয়্যারনির্ভর হয়। নতুন প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারী পরিস্থিতি অনুযায়ী অ্যাপারচার পরিবর্তন করে ছবির গভীরতা ও আলো নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি সুবিধা পাবেন। কম আলোতে ছবি তোলা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে পেছনের দৃশ্য থেকে আলাদা করে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে।

অবশ্য ব্যবহারকারী চাইলে ক্যামেরাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেও কাজ করতে দিতে পারবেন। পরিবেশের আলো এবং ছবির প্রয়োজনীয় গভীরতা বিবেচনা করে ফোন নিজেই উপযুক্ত অ্যাপারচার নির্বাচন করতে পারবে। অ্যাপলের দাবি, এই প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ তৈরিতে মানুষের চুলের চেয়েও পাতলা লেজার-কাটা উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্যামেরার পাশাপাশি ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন আইফোনে উন্নত সুবিধা রাখা হয়েছে। ফলে যারা মোবাইল ফোন দিয়েই নিয়মিত ছবি ও ভিডিও তৈরি করেন, কনটেন্ট নির্মাণ করেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল তৈরি করেন, তাদের কাছে নতুন ক্যামেরা প্রযুক্তি বিশেষ আকর্ষণের হতে পারে।

ডিসপ্লের ক্ষেত্রে আইফোন ১৮ প্রোতে রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির স্ক্রিন। অন্যদিকে বড় আকারের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে দেওয়া হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফলে যারা বড় পর্দায় ভিডিও দেখা, গেম খেলা, ছবি সম্পাদনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য প্রো ম্যাক্স মডেলটি বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।

ব্যাটারি সক্ষমতাতেও এবার বড় পরিবর্তনের দাবি করেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোতে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক করা সম্ভব। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে এই সময় বেড়ে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। ফলে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করা, ভিডিও দেখা কিংবা ভারী কাজ করার ক্ষেত্রে নতুন মডেলগুলো আগের তুলনায় বেশি সময় ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারে।

কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও নতুন সংযোজন রয়েছে। আইফোন ১৮ প্রোতে অ্যাপলের নতুন সি২ মডেম সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, এটি মোবাইল নেটওয়ার্কের মান ও নির্ভরযোগ্যতা উন্নত করার পাশাপাশি আগের সি১এক্স মডেমের তুলনায় দ্রুত আপলোড সুবিধা দিতে পারে এবং কম শক্তি ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের মডেলে সি২ মডেমের মাধ্যমে মিলিমিটার ওয়েভ ৫জি সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সি২ মডেম নিয়ে একটি বিষয় আলাদা করে উল্লেখযোগ্য। অ্যাপলের প্রকাশিত প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী ছোট আইফোন ১৮ প্রো মডেলে সি২ মডেমের উল্লেখ স্পষ্ট থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের তথ্যের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অঞ্চলভেদে হার্ডওয়্যার কনফিগারেশনে পার্থক্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্টোরেজের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের সামনে রয়েছে বড় পরিসর। আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স—দুটি মডেলই ২৫৬ গিগাবাইট, ৫১২ গিগাবাইট, ১ টেরাবাইট এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজে পাওয়া যাবে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণকারী পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্যও একাধিক বিকল্প থাকছে।

রঙের ক্ষেত্রেও নতুনত্ব রয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ পাওয়া যাবে বারগান্ডি, গ্লেসিয়ার, সিলভার এবং ব্ল্যাক রঙে। নতুন বারগান্ডি রঙটি এবারের সিরিজের অন্যতম আলোচিত সংযোজন।

দামের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৮ প্রোর ২৫৬ গিগাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের একই স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার। ২৪ মাসের কিস্তি সুবিধায় এগুলো যথাক্রমে মাসে ৪৯ দশমিক ৯৫ ডলার এবং ৫৪ দশমিক ১২ ডলার থেকেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভারতের বাজারে আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ রুপি থেকে। আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হচ্ছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ রুপি থেকে। দুই মডেলেরই স্টোরেজ সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থানীয় বাজারে আমদানি, কর, শুল্ক, বিক্রেতার মার্জিন ও অন্যান্য খরচের কারণে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের দামের সঙ্গে সরাসরি মিলবে না। ফলে বাংলাদেশে ফোন দুটি আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার পরই স্থানীয় দাম সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যাবে।

অ্যাপলের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের আগাম অর্ডার নেওয়া শুরু হবে ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট বাজারে ফোন দুটি বিক্রি শুরু হবে। ৬৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে একই সময়ে প্রি-অর্ডার এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার এই প্রথম ধাপের তালিকায় রয়েছে।

নতুন সিরিজের মাধ্যমে অ্যাপল শুধু প্রসেসরের গতি বাড়ানোর দিকে নজর দেয়নি; বরং ক্যামেরা, ব্যাটারি, তাপ নিয়ন্ত্রণ, কানেক্টিভিটি ও অন-ডিভাইস এআই সক্ষমতার সমন্বিত উন্নয়নের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে পরিবর্তনযোগ্য অ্যাপারচার ক্যামেরা প্রযুক্তি আইফোনের ফটোগ্রাফি অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উন্নত তাপ ব্যবস্থাপনা। অ্যাপল নতুন প্রজন্মের ভ্যাপর চেম্বার ব্যবহার করেছে, যার পৃষ্ঠের ক্ষেত্র আগের প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দীর্ঘ সময় ধরে ভারী কাজ করার সময় ফোনের কর্মক্ষমতা ধরে রাখা এবং অতিরিক্ত তাপের প্রভাব কমানো।

সব মিলিয়ে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সে অ্যাপল তার প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পরিবর্তন এনেছে। নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত ক্যামেরা, প্রথমবারের পরিবর্তনযোগ্য অ্যাপারচার, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, নতুন সি২ মডেম এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজ—সব মিলিয়ে নতুন সিরিজকে আগের প্রজন্মের তুলনায় আরও শক্তিশালী করে তুলতে চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে আগাম অর্ডার এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ায় এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর থাকবে নতুন আইফোনের বাস্তব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাজারমূল্যের দিকে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য ফোন দুটি কবে এবং কত দামে পাওয়া যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত