কেন্দুয়ায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ২ লাখ টাকা ছিনতাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ বার
কেন্দুয়ায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ২ লাখ টাকা ছিনতাই

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন এক বিকাশ ব্যবসায়ী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর তার কাছ থেকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ব্যস্ত জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়ার মতির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীর নাম আনিসুল হক টিপু। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ, নগদ, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোড সেবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাতের ব্যবসা শেষ করে দোকান বন্ধ করে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুল হক টিপু। তিনি যখন বাসার কাছাকাছি পৌঁছান, তখন আগে থেকেই ওত পেতে থাকা তিন থেকে চারজনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল তার পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোনগুলো ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হামলার পর স্থানীয় লোকজন তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার আকস্মিকতায় কেউ ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করার সুযোগ পাননি। রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

ভুক্তভোগী আনিসুল হক টিপু জানান, ছিনতাই হওয়া পাঁচটি মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো না; এগুলোর মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং ফ্লেক্সিলোডের নিয়মিত আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হতো। প্রতিটি মোবাইলের সঙ্গে ব্যবসায়িক হিসাব, গ্রাহকের তথ্য এবং চলমান আর্থিক কার্যক্রম সংযুক্ত ছিল। ফলে শুধু নগদ অর্থ নয়, মোবাইলগুলো হারানোর কারণে তিনি আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি তার পথ আটকে হামলা চালায়। আত্মরক্ষার সুযোগও পাননি। হামলার পর দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেন্দুয়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন সংঘবদ্ধ ছিনতাই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্যবসা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার সময় ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থ বহন করেন। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এমন হামলা চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ধ্যার পর শহরের কিছু এলাকায় ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতির আশঙ্কা বেড়েছে। যদিও অধিকাংশ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না হওয়ায় অনেক অপরাধই প্রকাশ্যে আসে না। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মতির মোড় এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রাতের দিকে বাজার ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কমে গেলে অপরাধীরা সুযোগ নেয়। ব্যস্ত এলাকার কাছেই এমন হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা এখন অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মোবাইল আর্থিক সেবা বা এমএফএস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অপরাধীদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন। কারণ তারা প্রায়ই নগদ অর্থ বহন করেন এবং ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনার জন্য একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। ফলে তাদের চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ছিনতাইয়ের পেছনে অনেক সময় স্থানীয় তথ্যদাতা বা ব্যবসায়ীর গতিবিধি সম্পর্কে পূর্বপরিকল্পিত নজরদারির বিষয় থাকতে পারে। তাই ঘটনার তদন্তে শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের নয়, তাদের সহযোগীদেরও শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা রাতে ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরেন, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করবে এবং ছিনতাই হওয়া অর্থ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং অপরাধ প্রবণতাও কমবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত