সর্বশেষ :
বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল নবদম্পতির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য সংকট, চিকিৎসকদের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হাসনাত আবদুল্লাহর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদের, নতুন বিতর্ক রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নজর দেশের গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পিকার-ইসির ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর বরাদ্দ, উঠছে অনিয়মের অভিযোগ গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা মাতামুহুরী কলেজের জমি উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ বার
কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ৮ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর অভিযোগে নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কঠোর অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। বিজিবির দাবি, সীমান্তে নিয়মিত টহল ও সতর্ক নজরদারির ফলে শুক্রবার ভোরে সংঘটিত এ পুশইনের চেষ্টা সফল হতে পারেনি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায়, সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীপথে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা নদীপথ ব্যবহার করে মোট আটজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে ছিলেন দুইজন পুরুষ, চারজন নারী এবং দুইজন ট্রান্সজেন্ডার। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া এসব ব্যক্তিকে নদী সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছে বিজিবি।

সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির টহলদল ঘটনাটি দ্রুত শনাক্ত করে। এরপর তারা সীমান্তে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেয়। বিজিবির উপস্থিতি ও কড়া অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ওই ব্যক্তিরা একই নদীপথে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে পুশইনের অভিযোগ একাধিকবার সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পরিচয়হীন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা ও পতাকা বৈঠকের ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে। ফলে যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই এবং কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে কোনো ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ মানবিক ও আইনগত উভয় দিক থেকেই সংবেদনশীল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সীমান্ত পারাপার, প্রত্যাবাসন কিংবা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রমের কারণে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তসংক্রান্ত নানা ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তারা মনে করেন।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত